দিল্লিতে বৃষ্টির জেরে শুক্রবারের কর্মসূচি বাতিল হয়েছিল। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে 'পাবলিক ইমপিচমেন্ট' বা গণ-অভিসংশন কর্মসূচি পালন করবে ইন্ডিয়া জোট।
ইন্ডিয়া জোটের নেতারা আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে 'পাবলিক ইমপিচমেন্ট' বা গণ-অভিসংশন কর্মসূচি পালন করবেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন, ১০ রাজাজি মার্গে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে বৃষ্টির কারণে এই কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান, প্রবীণ নেতাদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই কথা ভেবেই সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার কারণ
শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, "বৃষ্টির কারণে আমরা সর্বসম্মতভাবে আজকের কর্মসূচি (সিইসি-র বিরুদ্ধে গণ-অভিসংশন) আগামিকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছি। একই সময়ে তা অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের মনে হয়েছে, বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকাটা প্রবীণদের জন্য বেশ অসুবিধাজনক হবে। তাই আমরা আগামিকাল এই একই কর্মসূচি পালন করব।"

রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিতে জোর
আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের একটি পদযাত্রা রয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, "পরশু রামলীলা ময়দানে আমাদের একটি পদযাত্রা রয়েছে। সমস্ত বিরোধী দল, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক ব্যক্তি, সমাজকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক—যাঁরা আসতে চান, সবাই আমন্ত্রিত। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনে বসে থাকা জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর দলবল কীভাবে ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, এই দুটি কর্মসূচিতে সেটাই তুলে ধরা হবে।"
রাহুলের আরও অভিযোগ, মানুষ যাতে এই সমাবেশে যোগ দিতে দিল্লি আসতে না পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর কথায়, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে ঢুকতে না পারে। ইউপি, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা এবং পাঞ্জাব থেকে আমাদের দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ যাঁরা আসতে চাইছেন, তাঁদের আটকানো হচ্ছে। ওরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছে..."
রাহুল জানান, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের সমাবেশে মানুষের ভিড়ই বুঝিয়ে দেবে জনতা ঠিক কী চাইছে। তাঁর দাবি, লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং ভোট চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এই কথিত নির্বাচনী অনিয়মের মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব এবং শিল্পপতি গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বিক্ষোভকে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের প্রতিবাদ আখ্যা দিয়ে রাহুল বলেন, সংবিধান, ভারতের মূল আদর্শ এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সব দল আজ একজোট।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টেয় খাড়গের বাসভবনে এই গণ-অভিসংশন কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এই কর্মসূচির আগে খাড়গের বাসভবনে একটি বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, দলের নেতা পবন খেরা, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এবং জয়রাম রমেশ।






