Supreme Court: ব্রেকআপের পর পুরনো সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা ব্যক্তিগত মতভেদের কারণে আলাদা হয়ে যাওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু অনেক সময় এসব সম্পর্কের ঝামেলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি এই ধরনেরই এক মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
14
Image Credit : Asianet News
সম্পর্ক চলাকালীন দুজন মানুষ নিজেদের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাদের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয় এবং তারা আলাদা হয়ে যান। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই পুরনো শারীরিক সম্পর্ককে 'ধর্ষণ' বলা যায় না। দুপক্ষের অমতে বা জোর করে ঘটা অপরাধের সাথে সসম্মতি সম্পর্কের একটা স্পষ্ট ফারাক থাকা দরকার। ব্যর্থ প্রেমের সম্পর্ককে এভাবে ফৌজদারি মামলায় বদলে দিলে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সম্মান নষ্ট হয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
Add Asianetnews Bangla as a Preferred Source

24
Image Credit : AI image (Gemini)
ধর্ষণ আর প্রতারণা যে দুটো আলাদা বিষয়, তা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ থাকলেই তার সাথে ঘটা সমস্ত শারীরিক সম্পর্ককে ধর্ষণের রূপ দেওয়া যায় না। সম্পর্কের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল, সেখানে বিয়ের কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল কি না, কিংবা কোনো ভুল উদ্দেশ্য ছিল কি না—সবকিছুই আলাদা করে দেখা দরকার। শুধু সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেওয়া চলে না। তবে আসল প্রতারণা বা জোরজুলুমের অভিযোগকে যে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, সেটাও স্পষ্ট করেছে বিচারপীঠ।
34
Image Credit : Getty
পুরো মামলাটির উৎপত্তি কেরালা থেকে। এক ব্যক্তি তার আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বলে অভিযোগ তোলেন এক নারী। সত্যিটা জানতে পেরে ওই নারী পরে তার সাথে সম্পর্ক শেষ করেন। এরপর প্রথম বিয়ে গোপন রেখে ঠকানোর অভিযোগে ওই ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করেন তিনি। এই মামলার শুনানির সময়েই সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, বিবাদের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা আর ধর্ষণের অভিযোগকে একইভাবে গুলিয়ে ফেলা যায় না।
44
Image Credit : X
বিচারপতি বিভি নাగరথনা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি পরিচালনা করেন। আদালত জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বিবাদ, প্রতারণা এবং পারস্পরিক সম্মতির সম্পর্ককে আইনের চোখে এক করে দেখা ঠিক নয়। বিশেষ করে সম্পর্ক ব্যর্থ হওয়ার পর অতীতে ঘটে যাওয়া পারস্পরিক শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে ধর্ষণের রূপ দেওয়া একদমই অনুচিত। তবে কেউ প্রথম বিয়ে গোপন রেখে প্রতারণা করলে, আইন অনুযায়ী তার আলাদা বিচার হবে। কোনো ব্যক্তিগত গণ্ডগোলকে ফৌজদারি মামলায় রূপ দেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ভালো করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

