ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে বড় ঘটনা। পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা কিছু অস্থায়ী নির্মাণ ভেঙে দিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইসলামাবাদের ঘটনার বদলা হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
পাক হাইকমিশনের বাইরে ঠিক কী ঘটেছে?
নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের বাইরে আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য কিছু অস্থায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল লাইনে দাঁড়ানোর জন্য শেড, মেটালের বেড়া এবং আরও কিছু কাঠামো। অভিযোগ, এই নির্মাণগুলি নির্দিষ্ট সীমানা পেরিয়ে রাস্তার ওপর চলে এসেছিল। এরপরই কর্তৃপক্ষ JCB নিয়ে এসে সেই নির্মাণগুলি ভেঙে দেয়।
যেগুলো ভাঙা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে লাইনে দাঁড়ানোর শেড, মেটালের ফ্রেম, টিনের চাল এবং রাস্তার পাশের ব্যারিকেড। ঘটনার পর হাইকমিশনের বাইরে ভাঙা অংশের স্তূপ দেখা যায়। তবে জানা গেছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল গেট বা পাঁচিলের কোনও ক্ষতি হয়নি।
ইসলামাবাদের ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র কী?
দিল্লির এই ঘটনার ঠিক তিন দিন আগেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে ভারতীয় দূতাবাসের বাইরের কিছু নিরাপত্তা ব্যারিকেড ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা সরিয়ে দিয়েছিল পাক প্রশাসন। এর তিন দিনের মাথায় নয়াদিল্লিতেও একই ঘটনা ঘটায় অনেকেই বিষয়টিকে 'ইটের বদলে পাটকেল' হিসেবে দেখছেন।
তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এটিকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। আধিকারিকদের মতে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের নির্মাণগুলি বেআইনিভাবে নির্দিষ্ট সীমানা লঙ্ঘন করেছিল, তাই সেগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীর প্রসঙ্গ
এর মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর শ্রীনগর সফরে যান। সেখানে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে 'ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ' বলে মন্তব্য করেন। উপত্যকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি জানান। এমনকি আমেরিকা জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য তাদের ট্র্যাভেল অ্যাডভাইসরি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
গোরের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকারকে ডেকে পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। পাকিস্তান জানিয়েছে, গোরের মন্তব্য কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী।
ভারত-পাক কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে
পরপর এই ঘটনাগুলি—হাইকমিশনের বাইরে নির্মাণ ভাঙা এবং কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন দূতের মন্তব্য—ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে ফের উত্তপ্ত করেছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এক দেশের পদক্ষেপের জবাবেই অন্য দেশ একই কাজ করেছে। যদিও নয়াদিল্লির ঘটনাকে সরকারিভাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলা হচ্ছে না, বরং বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কথাই বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন দূতের মন্তব্যে পাকিস্তানের কড়া প্রতিক্রিয়া গোটা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যেখানে আমেরিকাও জড়িয়ে পড়েছে।


