সীমান্তের পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমার ওপারে রীতিমত সাজসাজ রব।  সৈন্য জমায়েত করে চলেছে চিন। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার সেনার সমাবেশ হয়েছে সীমান্তের ওপার। এবার এপারে হাত হাত গুটিয়ে বসে নেই ভারত। সেনা সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত চিনা সৈন্যদের কার্যকলাপের ওপর নজরদারী চালানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে, বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পার্বত্য বাহিনী। 

সেনা সূত্রের খবর, ৩৪৮৮ কিলোমিটার  প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবার ভারত বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পার্বত্য বাহিনী মোতায়েন করেছে। চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মির আগ্রাসন রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পশ্চিম মধ্য ও পূর্বাঞ্চল যে কোনও এলাকায় যাতে চিনা সেনার আগ্রাসন রুখে দেওয়া যায় সেই দিকেই জোর দিচ্ছে ভারত। 

সোশ্যাল মিডিয়া তাঁকে 'হতাশ' করেছে, চরম পরিস্থিতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আর্জি রতন টা

উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকায় লড়াই করার জন্য বেশ কয়েক দশক ধরে এই বাহিনীকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে এই বাহিনীর মূল কাজই হবে সীমান্তের ওপরারে চিনের গতিবিধির ওপর নজরদারী চালান। প্রয়োজনে দেশের অখণ্ডতা ও সর্বভৌম্যত্ব বজার রাখার সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পার্বত্য বাহিনীর মূল প্রতিপক্ষই হল সীমান্তের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা। যারা মূলত পদাতিক বাহিনী। কার্গিল যুদ্ধের সময় এই পাহাড়ী সেনাদের সাফল্য রীতিমত শিরোনামে চলে আসে। গেরিলা যুদ্ধে এরা সিদ্ধহস্ত। পাশাপাশি উচ্চ থেকে উচ্চতর উচ্চতায় লড়াইয়ের প্রশিক্ষণও রয়েছে তাদের। 

আবার উচ্চ পর্যায়ের সামরিক বৈঠকে বসছে ভারত-চিন, কথা হতে পারে গালওয়ান ফোর ফিঙ্গার নিয়ে ...

পাহাড়ে লড়াইয়ের বিষয়টি রীতিমত কঠিন । একএকটি দলে দশ জন সদস্য থাকে। তাঁরা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে শত্রু পক্ষের গতিবিধির ওপর নজর রাখে। উত্তরাখণ্ড, লাদাখ, গোর্খা, অরুণাচল, সিকিমের সেনাবাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চতায় মানিয়ে নিয়েছে। তাই এদের লড়াইয়ের ক্ষমতাও বেশি। আর্টিলারি ও ক্ষপণাস্ত্রগুলি সঠিক অবস্থানে রাখতে হয় উচ্চতম উচ্চতায় যুদ্ধের জন্য। না হলেই চরম বিড়ম্বনার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চতম উচ্চতায় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন এক সেনা কর্তা। 

লাদাখ সংঘর্ষেই ভারতীয় সেনার অন্দরে পরিবর্তন, বদলে যেতে চলেছে দশক পুরনো নিয়ম ...

তিব্বতি মালভূমিটি চিনা পক্ষে পড়েছে সমতল দিকটি। আর উল্টে ভারতের দিকে পড়েছে পাহাড়ী এলাকা। কারাকোরামের কে২ শৃঙ্গ, থেকে উত্তরাখণ্ডের নন্দাদেবী, সিমিকের কাঞ্চনজঙ্ঘা আর অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত নামচে বরওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতীয় ভূখণ্ড। পাহাড়গুলি অধিগ্রহণ করা কঠিন নয়। কিন্তু এগুলিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখাও অত্যন্ত কঠিন কাজ বলেই দাবি করেছেন এক সমর বিশেষজ্ঞ।