সেনাবাহিনীর জন্য আমেরিকার থেকে প্রায় ৬০টি জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল কিনছে ভারত। এই চুক্তির মোট মূল্য ২৯২ কোটি টাকা। 'অপারেশন সিন্দুর'-এর পর জরুরি ভিত্তিতে এই অস্ত্র কেনা হচ্ছে, যা ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য আমেরিকা থেকে প্রায় ৬০টি জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল কেনার জন্য ২৯২ কোটি টাকার একটি চুক্তি সই করেছে ভারত। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র কেনার ক্ষমতা ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছে, গত বছর 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পর তিন বাহিনীকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রশস্ত্র কেনার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই মিসাইল কেনা হচ্ছে।
চুক্তিকে স্বাগত জানাল আমেরিকা, যৌথ উৎপাদনের ইঙ্গিত
এই চুক্তির (EP-6) আওতায় কেনা অস্ত্রশস্ত্র ২০২৬-২৭ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনীর হাতে আসতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বেশ কিছু সংস্থা অস্ত্র সরবরাহের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে লেখেন, "এটা একটা বড় খবর! ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করেছে। যেমনটা মে ২০২৬-এর শাংরি-লা ডায়ালগে @secwar বলেছিলেন, এটা মার্কিন-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাও খুলে দিচ্ছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।"
কেনাকাটার খুঁটিনাটি এবং দেশীয় উদ্যোগ
জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল বহু বছর ধরেই সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অনেক যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী আপাতত সীমিত সংখ্যায় এই মিসাইল কিনছে। কারণ, জরুরি ভিত্তিতে কেনার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করা যায়।
আমেরিকা বেশ কিছুদিন ধরেই ভারত সরকারকে এই মিসাইল বিক্রি করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিল। অন্যদিকে, ভারতও নিজেদের ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল তৈরি করছে। এই দেশীয় মিসাইলের একাধিক পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হলেও, এটি এখনও নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারত এক্সক্যালিবার প্রিসিশন-গাইডেড আর্টিলারি গোলাও কিনছে। এর আগেও জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র কেনার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ধরনের গোলা কিনেছিল।


