২০২৬ সালের ব্রিকস চেয়ার হিসেবে ভারত প্রথম SME ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক ডাকল। মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলোর (MSME) জন্য ঋণ পাওয়া সহজ করা। বৈঠকে ফিনটেকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবধান কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ভারত ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS) চেয়ার হিসেবে প্রথম SME ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজন করল। শুক্রবার এই ভার্চুয়াল বৈঠকে মূল আলোচনা হয় ব্রিকস দেশগুলোর ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলোর (MSME) জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ করা নিয়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভারতের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক (Ministry of Micro, Small & Medium Enterprises) জানিয়েছে, ২০২৬-এর চেয়ার হিসেবে ভারত MSME-গুলির সহযোগিতার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগটি ব্রিকস পার্টনারশিপ অন দ্য নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশন (PartNIR)-এর অংশ। এর আওতায় ভারত মোট তিনটি SME ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক এবং প্রথম ব্রিকস MSME ফোরাম আয়োজন করবে।

আলোচনার মূল বিষয়

প্রথম বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল "MSME-গুলির জন্য ঋণের জোগান"।

বৈঠকে দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রথমত, "আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সাক্ষরতা এবং ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা বাড়িয়ে MSME-গুলির ঋণের ঘাটতি পূরণ করা"। দ্বিতীয়ত, "ফিনটেক-চালিত ব্যবস্থার মাধ্যমে SME-গুলির জন্য ঋণের জোগান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পেমেন্ট সহজ করা"।

এই ওয়েবিনারে ব্রিকস সদস্য দেশগুলো খুব সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। MSME-গুলির ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা ও সুযোগ নিয়ে দেশগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং সেরা কৌশলগুলো একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।

বৈঠকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা

মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সবাই একমত যে MSME-গুলি "অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি, উদ্ভাবন এবং সার্বিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি"। তবে এটাও তুলে ধরা হয় যে, এই সংস্থাগুলির সময়মতো এবং পর্যাপ্ত ঋণ পেতে এখনও অনেক বাধা রয়েছে।

আলোচনায় এই বিষয়ে জোর দেওয়া হয় যে, "ঋণের এই ঘাটতি মেটাতে একটি বহুমুখী পদক্ষেপ" নেওয়া দরকার। এর জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো, আর্থিক সাক্ষরতা উন্নত করা এবং MSME-গুলির ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে আরও বলা হয়, ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা শক্তিশালী করা, ঋণের জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি তৈরি করা এবং MSME-গুলির জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মন্ত্রক আরও যোগ করেছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে "ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নীতিগত আদান-প্রদান অনেক সহজ হয়েছে"। কারণ সব দেশই প্রায় একই ধরনের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈঠকে সব দেশই ব্রিকস অর্থনীতিতে "শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক MSME ক্ষেত্র" গড়ে তোলার জন্য নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।