Indian Food News: ২০১৯ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪০-র বেশি ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’ ভারতীয় খাদ্যপণ্য ফ্ল্যাগ করেছে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কীটনাশক, সিসা, ক্যাডমিয়াম, আফলাটক্সিন ও ইথিলিন অক্সাইডের জন্য। 

Indian Food News: পাতে যে মশলা দিচ্ছেন, সেই জিরে-লঙ্কা-হলুদ ইউরোপের দরজা থেকে ফেরত এসেছে। কারণ? ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ইথিলিন অক্সাইড, সিসা, ক্যাডমিয়াম আর নিষিদ্ধ কীটনাশক। ২০১৯ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে EU-এর RASFF সিস্টেমে ৪০-র বেশি ভারতীয় খাদ্যপণ্য ফ্ল্যাগ হয়েছে। বিদেশে বাতিল, অথচ দেশের বাজারে দেদার বিক্রি। প্রশ্ন একটাই – আমরা কী খাচ্ছি?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইউরোপ যা বাতিল করল, ভারতে তা ‘ফুড গ্রেড’?

১. ৪৫০+ পণ্য ফ্ল্যাগ – কী ছিল তালিকায়?

Deccan Herald-এর রিপোর্ট বলছে, ২০১৯-২০২৪-এ EU ৪০-র বেশি ভারতীয় পণ্য আটকেছে।

ধরা পড়েছে কী:

- ১৪টি পণ্যে সিসা – যা কিডনি, লিভার, মস্তিষ্ক নষ্ট করে

- ২১টি পণ্যে ক্যাডমিয়াম – বেশিরভাগ অক্টোপাস, স্কুইড। দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগ, হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়

- ৫৯টি পণ্যে কার্সিনোজেনিক কীটনাশক – চাল, ভেষজ, মশলায় ট্রাইসাইক্লাজল নামের ছত্রাকনাশক পাওয়া গেছে, যা EU-তে ক্যান্সার ও জেনেটিক ক্ষতির জন্য নিষিদ্ধ

- ৫২টি পণ্যে একাধিক কীটনাশক – কোনোটায় ৫টা পর্যন্ত মিশ্রণ

- ২০টি পণ্যে 2-ক্লোরোইথানল – ইথিলিন অক্সাইডের বিষাক্ত বাই-প্রোডাক্ট

- ১০টি পণ্যে অক্রাটক্সিন A – নিষিদ্ধ মাইকোটক্সিন, লঙ্কা, কফি, চালে মিলেছে।

২. ইথিলিন অক্সাইড কেলেঙ্কারি – ৫২৭টি পণ্য

EU-এর খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা EFSA-এর তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত RASFF-এ ভারত-লিঙ্কড ৫২৭টি খাদ্য ও ফিড পণ্যে ইথিলিন অক্সাইড ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৩২টির উৎস সরাসরি ভারত। এই কেমিক্যাল দীর্ঘদিন খেলে লিম্ফোমা, লিউকেমিয়ার মতো ক্যান্সার হতে পারে। হংকং, সিঙ্গাপুরে MDH, Everest-এর মশলা ব্যান হয়েছিল এই কারণেই।

৩. কোন পণ্য EU-এর ‘রেড জোন’-এ?

EU-এর রেগুলেশন 2019/1793 Annex I অনুযায়ী ভারত থেকে আসা এই পণ্যগুলোর ওপর ‘বর্ধিত পরীক্ষা’ চলছে:

সবজি-ফল: ঢেঁড়স, পেয়ারা, লাউ

মশলা: জিরে, গোলমরিচ, শুকনো লঙ্কা, জায়ফল, ভ্যানিলা, লবঙ্গ

অন্যান্য: চাল, পানপাতা, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট

জুলাই ২০২৫-এর আপডেটে EU ভারতের জিরে, শুকনো লঙ্কা, হলুদ, কারি পাতা, বটল গোর্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে।

৪. দেশে কেন বিক্রি হচ্ছে? FSSAI-এর জবাব

লোকসভায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রক জানিয়েছে, “কোন খাদ্যপণ্য অন্য দেশে ব্যান, সেই তালিকা FSSAI-এর কাছে নেই”। আমদানি করা খাবার কাস্টমসে ডকুমেন্ট চেক, ভিজ্যুয়াল ইন্সপেকশন, স্যাম্পলিং হয় ঠিকই, কিন্তু EU-তে ব্যান হওয়া পণ্য দেশে ঢুকতে বাধা নেই। উল্টে FSSAI সম্প্রতি মশলায় কীটনাশকের ‘সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা’ ১০ গুণ বাড়িয়েছে।

৫. ভেজালের আরেক রূপ – অরামিন O

শুধু রপ্তানি নয়, দেশের মিষ্টি, নমকিনে অবৈধ রং ‘অরামিন O’ ধরা পড়ছে। টেক্সটাইল-চামড়ার শিল্পে ব্যবহৃত এই রং লিভার-কিডনি ড্যামেজ, জেনেটিক মিউটেশন, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। IARC একে ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ বলেছে। সস্তা আর উজ্জ্বল রঙের লোভে ছোট মিষ্টির দোকানদাররা একে কেশর-হলুদের বদলে মেশাচ্ছে।

তাহলে উপায় কী? পাতে তুলবেন কী করে?

১. ব্র্যান্ড দেখে কিনুন, লুজ মশলা এড়ান

লুজ জিরে, লঙ্কা গুঁড়োয় ভেজালের ঝুঁকি বেশি। দারুচিনিতে কাঠের গুঁড়ো, জিরেয় ঘাসের বীজ মেশানো হয়। প্যাকেটজাত, FSSAI লোগো, ব্যাচ নম্বর, MFD দেখে কিনুন।

২. ধুয়ে-ভিজিয়ে রান্না করুন

চাল-ডাল ৩-৪ বার ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে কীটনাশকের কিছুটা কমে। সবজি ২% নুন-জলে ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

৩. লেবেল পড়ার অভ্যাস করুন

‘Ethylene oxide treated’ বা ‘ETO sterilized’ লেখা থাকলে এড়িয়ে চলুন। অর্গানিক সার্টিফায়েড পণ্য নিরাপদ।

৪. বাড়িতে গুঁড়ো করুন

গোটা জিরে, ধনে, গোলমরিচ কিনে বাড়িতে মিক্সিতে গুঁড়ো করুন। রেডিমেড গুঁড়ো মশলায় ভেজাল মেশানো সহজ।

শেষ কথা:

ইউরোপ তার নাগরিক বাঁচাতে বর্ডারে পণ্য আটকাচ্ছে। আমরা? FSSAI-এর কাছে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নেই, রাজ্য সরকার মাঝে মাঝে ১৭টা প্যাকেটজাত খাবার ব্যান করছে, কিন্তু সিস্টেমে ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। খাবার নিয়ে সচেতন না হলে ‘বিষ’টাই নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে যাবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।