করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা রীতিমত রেকর্ড গড়েছে মহারাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। সোমবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৯০ জন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে শুরু করে দিয়েছে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন পরিষেবা। তবে সবার জন্য নয়। 

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়ের্স্টান রেলওয়ের তরফ থেকে জানান হয়েছে, রাজ্য সরকার চিহ্নিত জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই লোকাল ট্রেনে সওয়ার হতে পারবেন। প্রত্যেক যাত্রীর বৈধ টিকিট থাকতে হবে। বাকি যাত্রীদের কাছে অযোথা স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় ভিড় না করারি আবেদন জানান হয়েছে রেলের তরফ থেকে। 

একমাত্র 'করোনা অ্যাম্বলেন্স' চালকের মৃত্যু, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ কোলাঘাট ...

ট্রাম্পের দেশে ১৮১ পাতার হাসপাতালের বিল, অঙ্ক দেখে মাথা ঘুরে গেল করোনা রোগীর ...

মন কি বাত অনুষ্ঠানে দেশের 'মনের কথা' শুনবেন, 'করোনা লড়াই'এর জন্য চাইলেন পরামর্শ ...

১৫ মিনিট অন্তর অন্তর সকাল ৫টা ৩০ থেকে রাত ১১.৩০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে বলেও জানান হয়েছে। চার্চগেট থেকে ভিরর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে বলেও জানান হয়েছে। কিছু ট্রেন দহনু রোড পর্যন্ত যাবে। কিন্তু যাত্রীদের করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আবেদন জানান হয়েছে। ট্রেনে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আবেদন জানান হয়েছে যাত্রীদের কাছে।  রেলের তরফে জানান হয়েছে নির্দিষ্ট টিকিট বুকিং কাউন্টার থেকে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড দেখানোর পরই ট্রেনে ওঠার ছাড়পত্র পাওয়ায় যাবে। লোকল ট্রেন মুম্বইয়ে যোগাযোগের লাইফ লাইট। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনে সওয়ার হত। মুম্বই ও শহরতলীর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই লোকাল ট্রেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসের শেষের দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ট্রেন চলাচল। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকেই হাঁটছে উদ্ধব প্রশাসন। মহারাষ্ট্রে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১লক্ষ ২৫ হাজার। 

মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রশ্নটা উঠছে এই রাজ্যে কবে থেকে শুরু হবে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। কারণ ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সরকারি বেসরকার আফিস খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু রাস্তায় এখনও পর্যাপ্ত বাসের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। কলকাতা পুরসভা কর্মীদের আনার জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বাকিদের অবস্থা তথৈবচ। বেসরকারি বা লাকজারি ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করেই অফিস যেতে হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের। আর যাদের সেই সঙ্গতি নেই তাঁদের বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেরক্ষা করতে হচ্ছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর রীতিমত বাদুড় ঝোলা হয়েই অফিস যেতে হচ্ছে। রীতিমত লাটে উঠেছে করোনা স্বাস্থ্য বিধি।  এই অবস্থায় লোকল ট্রেন চালু হলে কিছুটা সুরাহা হয় বলেই জানিয়েছেন শহরতলীর নিত্য যাত্রীরা। তবে এখনই এই রাজ্যে লোকাল ট্রেনের পরিষেবা মেলার কোনও ইঙ্গিত নেই। চলতি মাসে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন ফাঁকাই থেকে যাবে। শোনা যাবে না জন কোলাহল।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এই রাজ্যেও বন্ধ হয়ে গিয়েছে লোকাল ট্রেন।