রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, কোলাঘাটের বাসিন্দা। করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণের সময় তিনি ছিলেন এলাকার ত্রাতা। সংক্রমণের ভয়ে অন্য সব অ্যাম্বুলেন্স চালক যখন হাত গুটিয়ে নিয়েছেন তখন তিনি করোনা আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যেতেন হাসপাতালে। আবার ছুটি হলেও সেই তিনি ভরসা যোগাতেন। আক্রান্তদের ফিরিয়ে আনতেন বাড়িতে। শনিবার রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ব্লকে করোনা আক্রান্ত তিন জনের হদিশ পাওয়া যায়। রবিবার সকালে তাঁদের দুজনকে কোলাঘাটের করোনা হাসাপাতালে নিয়ে আসার সময়ই ঘটনা যায় বিপত্তি। 

কোলাঘাটের দুই করোনা আক্রান্ত রোগিকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে তীব্র গতিতে আসছিল। কোলিশ্বরের কাছে তীব্র গতিতে আসা অ্যাম্বলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে   ধাক্কা মারে একটি লরির পিছনে। লরিটি রাস্তার ধারেই দাড়িয়ে ছিল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অ্যাম্বলেন্সের চালকের। করোনা আক্রান্ত দুই রোগীই গুরুতর চোট পান। অ্যাম্বুলেন্সটির সামনের দিক প্রায় ভেঙেচুরে গেছে। 

করোনা আক্রান্তের পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার, বিশ্বের ক্রম তালিকায় ৪ নম্বরে ভারত .

ক্ষমা চাইতেই হবে বললেন রাজ্যপাল, মৃতদেহ সৎকার ইস্যুতে রাজভবনের সঙ্গে বাকযুদ্ধ অব্যাহত রাজ্যসরকারের ...

'চুম্বনে করোনা' সারানোর দাবি করেতেন, নিজে মরে তান্ত্রিক সংক্রমিত করে গেলেন ২০ জনকে ...

কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে করোনা রোগী রয়েছেন এই  কথা জানান পরই স্থানীয় বাসিন্দারা সরে যান। কেউই এগিয়ে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় মৃতদেহের সঙ্গেই গাড়ি থাকতে হয়েছিল করোনা রোগীদের। পরে পাঁশকুড়া থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরা গিয়ে আক্রান্ত রোগীদের উদ্ধার করে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া হাসপাতালেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হয়। সেখানেই রয়েছে পরিষেবা পাওয়ার সমস্ত সুবিধে।  


তবে দুর্ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের মৃত্যুর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পাশাপাশি বাড়তে থাকে দুশ্চিন্তাও। কারণ করোনা আক্রান্ত কোনও রোগীকে হাসপাতালে  নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দ্বিতীয় বার ভাবতেন না রবীন্দ্রনাথ। তাই আগামী দিনে স্থানীয়রা এই পরিষেবা পাবেন কী করে তাই নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।