প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অরুণ জেটলির প্রয়াণের তিন দিন পর আজ সকালে তাঁর বাড়ি যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রয়াণের সময়ে ফ্রান্স-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-বাহরিন সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে যোগ দেন একাধিক কর্মসূচীতে সেই সঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন মোদী। 

প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু তথা সহযোদ্ধা অরুণ জেটলির মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই জেটলির পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয় প্রধানমন্ত্রীর। ফোনেই তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন মোদী। জেটলির পরিবারের তরফে তাঁকে অনুরোধ করা হয়, তিনি যেন তাঁর বিদেশ সফর বাতিল না করেন। সেই মোতাবেক বিদেশ সফর সেরে আজই দেশে ফেরার পর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রধানমন্ত্রী সোজা চলে যান অরুণ জেটলির বাড়ি। সেখানে গিয়ে প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গেও কথা বলেন।  

বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম জঙ্গিহানা কাশ্মীরে, নিহত ২ গুজ্জর

বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণের পর টুইটারে স্মৃতিমেদুর হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন একের পর এক টুইট শেয়ার করে প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করেন মোদী। একটি টুইট করে তিনি বলেন,বিজেপি এবং অরুণ জেটলি-র মধ্যেকার বন্ধন অবিচ্ছেদ্য। এক দাপুটে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন সামিল হয়েছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলের এক জনপ্রিয় মুখ, যিনি দলের কর্মসূচি ও আদর্শকে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারতেন। 

পাশাপাশি বাহরিনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং এমনকী তাঁর প্রিয় বন্ধু অরুণ যে আর নেই এ কথা তিনি বিশ্বাসও করতে পারছেন না। বাহরিনে দাঁড়িয়ে সেখানকার অনাবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি একজন মা‌নুষ যে কর্তব্যের কাছে আবদ্ধ। এমন এক সময় যখন বাহরিনে এমন উদ্দীপনা রয়েছে, ভারতে সবাই জন্মাষ্টমী পালন করছে, তখন আমার মনে আজ গভীর দুঃখ। সামাজিক জীবনে যে বন্ধুর সঙ্গে আমি একসঙ্গে পথ চলেছি , যার সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কাটিয়েছি, যার সঙ্গে আমি সংগ্রাম করেছি, স্বপ্ন দেখেছি এবং স্বপ্নপূরণ করেছি, সেই বন্ধু অরুণ জেটলি, দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রী আজ প্রয়াত।' 

শেষ হল এক অধ্যায়, প্রয়াত দেশের প্রথম মহিলা ডিজিপি

ভারতকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা, অতিরিক্ত জল ছেড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করল পাকিস্তান

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, এবার দেশের বৃহত্তম সুড়ঙ্গ তার নামেই নামাঙ্কিত হওয়ার পথে 

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন অরুণ জেটলি। যদিও নিজের সুস্থতার কথা নিজে খুব একটা প্রকাশ্যে আনতেন না। প্রথমবারের মোদী সরকারের শেষ কয়েকমাস চিকিৎসার জন্য মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে নবনির্বাচিত মোদী সরকারের মন্ত্রীসভায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছিলেন মোদী। শারীরিক অসুস্থতার জন্যই মন্ত্রীসভায় থাকতে চান না বলে জানিয়েছিসলেন তিনি। তবে দলীয় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে সহাস্য, বিচক্ষণ, দূরদর্শীতা সম্পন্ন এই রাজনীতিবিদ অমর হয়ে থাকবেন।