বাদল অধিবেশনের আগে নিজেদের রণকৌশল ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসেছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে তৈরি এই নতুন দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে দলের রণকৌশল কী হবে, তা নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনায় বসেছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সংসদীয় দল। বিকেল ৪টের সময় নতুন দিল্লির সংবিধান সদনে এই বৈঠক হয়। প্রসঙ্গত, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একজোট হয়ে NCPI নামে নতুন দল তৈরি করেছেন।
দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বার্তা
বাদল অধিবেশনের ঠিক আগের দিন ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে এই নতুন দলের নেতা হিসেবেই যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ জোর দিয়ে বলেন, "সংসদ বিরোধীদেরই।" তাঁর মতে, সরকারকে এই কথাটা মেনে নিয়ে সংসদ যাতে মসৃণভাবে চলে, তার উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বদলীয় বৈঠক নিয়ে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "আমাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা ২০ জন সাংসদের নতুন দলের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছি। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—সংসদ বিরোধীদের, এটা মানতে হবে। সরকারেরও উচিত এটা মেনে নিয়ে সংসদ চালানোর উদ্যোগ নেওয়া।"
সুদীপ আগেই জানিয়েছিলেন যে তাঁদের দল ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। সুদীপ বলেন, "সংসদ চলুক। একই সঙ্গে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের ঐক্যের নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। আমরা এই লাইন থেকে সরছি না। আমরা স্বভাবতই ধর্মনিরপেক্ষ।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা আমাদের দলের নীতি—ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্য—এগুলির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। NCPI-এর সংবিধানে এই নীতিগুলিই লেখা আছে। আমাদের দলে যে ২০ জন সাংসদ আছেন, তাঁদের মধ্যে তিনজন মুসলিম। আমরা মনে করি, এটাও একটা বড় ব্যাপার।"
এদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু NCPI-কে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোয় বিরোধী দলগুলি বৈঠক থেকে 'ওয়াকআউট' করে। যদিও পরে তারা আবার বৈঠকে ফিরে আসে। স্পিকার ওম বিড়লা নতুন এই দলের সাংসদদের স্বীকৃতি দেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট করে জানাননি। ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের থেকে প্রয়োজনীয় একাধিক নথি স্পিকার চেয়ে পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।


