দিল্লি পুলিশ ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ৪৮০টি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ব্লক করল। জানুন সিজেপি বিক্ষোভ, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত।
চলমান ককরোজ জনতা পার্টির (CJP) ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যেই বড়সড় তথ্য প্রকাশ করল দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভ সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত প্রায় ৪৮০টি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল শনাক্ত করে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছিল, আর তাই যাচাইবিহীন কোনও পোস্টে যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৪৮০ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক করল দিল্লি পুলিশ
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে চলা সিজেপির বিক্ষোভের আবহেই এই সতর্কবার্তা সামনে এল। একটি ভিডিও বার্তায় দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল, আর তদন্তে বেশ কয়েকটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডেলের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, "আমরা লক্ষ্য করেছি যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল শনাক্ত করা হয়েছে, যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুয়া বিষয়বস্তু ও গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের ব্লক করা হচ্ছে।" পুলিশ আরও দাবি করেছে, শনাক্তকৃত এই অ্যাকাউন্টগুলিই 'অপারেশন সিন্ধুর' চলাকালীন সক্রিয় ছিল।
ভুয়ো খবর ছড়িয়ে জনতাকে উত্তেজিত করাই ছিল উদ্দেশ্য: দিল্লি পুলিশ
দিল্লি পুলিশের মতে, এই অ্যাকাউন্টগুলির একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে উসকানি দেওয়া এবং বিশেষত শিক্ষার্থীদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। তাই পোস্ট শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে নেওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশের বার্তা, "আপনাদের কাছে আমার আবেদন, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ভুয়া পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিও বা বেনামী হ্যান্ডেল থেকে করা পোস্টে উসকানি দেবেন না।"
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, সিজেপির এই বিক্ষোভকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারতীয় প্রশাসনের কড়া আচরণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, "এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এ ধরনের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করি না।"
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বৃহস্পতিবার টানা ৩৪তম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদস্থলে ক্রমেই ভিড় বাড়ছে সমর্থকদের। গত ২০ জুলাই দলের 'সংসদ চলো' পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই আন্দোলনের তীব্রতা বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে, ওই পদযাত্রা চলাকালীন নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছিল।
