NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এবার দেশজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার, দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা।
NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এবার দেশজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার, অর্থাৎ আজ দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা। দেশের প্রতিটি প্রান্তে পড়ুয়াদের প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার X হ্যান্ডেলে একটি পোস্টার শেয়ার করে CJP দেশের সমস্ত মানুষকে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। ছাত্র সংগঠন এবং অন্যান্য দলগুলোকেও একসঙ্গে মিলেমিশে বিক্ষোভের অনুমতি ও অন্যান্য ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেছে তারা, যাতে পড়ুয়াদের দাবিগুলো জোর গলায় তুলে ধরা যায়।
সিজেপির হুঁশিয়ারি
সারাদেশে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে এমনিতেই ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে যুবসমাজ পথে নেমেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলছেই। তারই মধ্যে এই দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হল।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎতিপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র যেন গ্রহণ করা হয়। নাহলে এই আন্দোলন শুধু ওঁর পদত্যাগের দাবিতেই থেমে থাকবে না, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠবে। অভিজিৎ দিপকে বলেন, "মোদীজি, আমি আবার অনুরোধ করছি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। নাহলে এই আন্দোলন শুধু ওঁর পদত্যাগের দাবিতেই থেমে থাকবে না, আপনার পদত্যাগের দাবিও উঠবে।"
ধর্মেন্দ্র প্রধানকে "অযোগ্য ও ব্যর্থ" মন্ত্রী বলে কটাক্ষ করেতিপকে বলেন, "একজন অযোগ্য ও ব্যর্থ মন্ত্রী দেশের কোটি কোটি পড়ুয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি একজন ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে এই কোটি কোটি পড়ুয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতে আপনাকে কেউ ভোট দেবে না।"
সমাধান সূত্রের খোঁজ
এদিকে, রাজধানী দিল্লিতে চলা যুব বিক্ষোভের আবহে সরকার NEET-UG 2026 প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, সরকার আলোচনার জন্য বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে সরকারের তরফে বলা হয়েছে, বিরোধীরা আলোচনা করতেই পারে, কিন্তু পদত্যাগের মতো কোনও শর্ত রাখা চলবে না। অন্যদিকে এদিন সকালে সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেছেন। নরেন্দ্র মোদী শিক্ষা নিয়ে নতুন বিল আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই অনশন প্রত্যাহার করেছেন।
তবে CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনও কথাই হবে না। এটা ছাড়া বিক্ষোভ থামবে না। যতদিন লাগুক, আন্দোলন চলবে।" অন্যদিকে, বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত এবং এটি একটি গুরুতর সমস্যা যার জন্য গভীর আলোচনা প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা ও পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার জন্য বারবার ডাক দেওয়া হলেও, ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সরকারের তরফে আলোচনার জন্য তিনি কোনও বার্তা পাননি। তবে তাঁরা যন্তর মন্তর বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় দেখা করতে প্রস্তুত।
দাস এএনআই-কে বলেন, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন যে আমরা যেকোনো জায়গায় কথা বলতে পারি। তাহলে তো আমরা আমাদের প্রস্তাব দিয়েই দিয়েছি। যন্তর মন্তরে আসুন অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মতো কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় আসুন। আমরা সেখানেই দেখা করব। এখনও পর্যন্ত ওনাদের থেকে কোনও বার্তা পাইনি।"
প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের কড়া শাস্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সৌরভ দাস এই ধরনের ঘোষণাকে "অর্থহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।


