রীতিমত সংকটে মধ্যপ্রদেশেরর কমল নাথ সরকার। সোমবারের মধ্যেই কমল নাথ সরকারকে বিধানসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতার প্রমান দিতে হবে। রাজ্যপাল লালজী ট্যান্ডন শনিবারই জানিয়ে দিয়েছেন স্পিকার এনপি প্রজাপতিকে। তারপর থেকেই কংগ্রেস শিবির শুরু করে দিয়েছে অঙ্ক কষা। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলবদলের সময় তাঁর ২২ অনুগামী বিধায়কও দল পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন। আর তাতেই বিধায়ক সংখ্যার বিচারে বিজেপির থেকে পিছিয়ে পড়ছে কংগ্রেস।  নিজের দলের বিধায়কদের ধরে রাখতে রীতিমত কোমর বেঁধে নেমেছে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ভূপাসে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের ৮০ জন বিধায়ককে। গতসপ্তাহেও রাজস্থানের জয়পুরে রিসর্ট বন্ধি করে রাখা হয়েছিল অনেক বিধায়ককে। তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। 

আরও পড়ুনঃ করোনা সংক্রমণ রুখতে বিকেলে সার্ক নেতৃত্বের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স প্রধানমন্ত্রীর

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস LIVE, দুবাইগামী বিমান থেকে কোচিতে নামিয়ে দেওয়া হল যাত্রীদের

সরকার বাঁচাতে মরিয়া কমল নাথ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহকে চার পাতার একটি চিঠি লিখেছেন। আর সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ। কমাল প্রথমেই  বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের যে ২২ জন বিধায়ক রয়েছেন তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি অমিত শাহকে বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুক্ত করে দেওয়া হোক কংগ্রেস বিধায়কদের। পাশাপাশি বিজেপি তাঁর দলের বিধায়কদের বন্দি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ। বেঙ্গালুরুতে আটকে রাখা বিধায়কদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেছেন ২২ কংগ্রেস বিধায়ককে মুক্তি দেওয়া হলে মধ্যপ্রদেশ সরকার তাঁদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। 

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালে ভরতি রোগীর করোনা ধরা পড়তেই শুরু হয়ে গেল তুলকালাম

২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ছিল ১২০ আর সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১১৬। । জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার অনুগামী ২২ বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ায় সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে যেতে পারে কংগ্রেস। সেই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশের সরকার গঠনের অন্যতম দাবিদার হতে চলেছে বিজেপি। কারণ তাদের দিকে রয়েছে ১০৭ বিধায়কের সমর্থন। বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে আগেই সরব হয়েছিল কংগ্রেস। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে যাওর হুমকিও দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষে। কংগ্রেসের দাবি শান্ত রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল মধ্যপ্রদেশ। সেখানে দল ভাঙানো ও বিধায়ক কেনাবেচার সংস্কৃতি আমদানি করেছে বিজেপি। যা রাজ্যের সংস্কৃতির পক্ষে শুভ নয় বলেও দাবি শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেসের।