ফ্রান্সের এভিয়ানে আয়োজিত ৫২তম জি৭ সম্মেলনের ঐতিহ্যবাহী গ্রুপ ফটোতে বিশ্বের তাবড় নেতাদের সঙ্গে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা এই ফ্রেমে ছিলেন।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের লেকের ধারে সুন্দর শহর এভিয়ানে শুরু হয়েছে ৫২তম জি৭ সম্মেলন। আর সেখানেই বিশ্বের তাবড় নেতাদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গ্রুপ ছবিতে অংশ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ফ্রেমে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
G7 Summit
গ্রুপ ছবি তোলার আগে, ফ্রান্সের এভিয়ানে জি৭ সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিশেষ আমন্ত্রণেই এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার ফ্রান্সে পৌঁছন মোদী। এই নিয়ে ভারত ১৩ বারের জন্য অংশীদার দেশ হিসেবে এই সম্মেলনে যোগ দিল। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর এটি পরপর সাতবার জি৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণ।
ফ্রান্সে মোদীর কর্মসূচি
ফ্রান্সে পৌঁছনোর আগে প্রধানমন্ত্রী সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে তিনি সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর ইউরোপ সফর শুরু করেন। এই যাত্রাবিরতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, দুই নেতার মধ্যে উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে এবং তাঁরা ভারত-সুইজারল্যান্ড অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এইসব কূটনৈতিক আলোচনার পর এভিয়ানে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মঞ্চ তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী "Forging New Partnerships and Rebuilding International Solidarity" (নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্গঠন) শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কিং সেশনে অংশ নেবেন। এই অধিবেশনে জি৭ দেশ, অংশীদার দেশ এবং বিশ্বব্যাঙ্ক ও আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো বিশ্বের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধানরা যোগ দেবেন। এখানে মূলত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ঠাসা। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে কথা
এই ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই, ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বহুপ্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে এই বৈঠকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
স্লোভাকিয়ায় মোদী
ফ্রান্সে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্লোভাকিয়ায় একটি ঐতিহাসিক সফর করেন। ১৯৯৩ সালে মধ্য ইউরোপের এই দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে গেলেন। সফরের প্রথম ভাগেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়। প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য উভয় পক্ষ তাদের সম্পর্ককে একটি 'কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ'-এ উন্নীত করেছে। জি৭ মঞ্চে আসার ঠিক আগে স্লোভাকিয়া সফর সফলভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "স্লোভাকিয়ায় একটি ঐতিহাসিক এবং ফলপ্রসূ সফর শেষ করলাম। এই সফরের ফলাফল আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক আমাদের যুবকদের জন্য খুব উপকারী হবে। স্লোভাকিয়ার সরকার ও জনগণের উষ্ণতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে বিদায় জানাতে আসার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ফিকোর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।" প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জয়সওয়াল আরও বলেন, এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আর সেই সহযোগিতার সুর নিয়েই প্রধানমন্ত্রী মোদী এখন জি৭-এর বৃহত্তর আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।


