PM Narendra Modi: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, এই গ্রামগুলিই দেশের মূল শক্তি। 'বিকশিত ভারত' যাত্রায় এই ‘প্রথম গ্রামগুলিকে’ শামিল করতে 'মাই ভারত' প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে 'বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

PM Narendra Modi: দেশের মূল শক্তি তারাই। রবিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে বসবাসকারী মানুষদের গভীর দেশপ্রেম এবং সহনশীলতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, তাদের এই মনোভাবই দেশের আসল পরিচয় বহন করে (Narendra Modi new program)।

'বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচি কী?

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে 'প্রথম গ্রাম' হিসেবে গণ্য করার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, তা বাস্তবায়নের জন্যই 'বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচি আনা হয়েছে। 'মাই ভারত' (MY Bharat) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই গ্রামগুলিকে 'বিকশিত ভারত' গড়ার যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার করে তোলাই এর লক্ষ্য। এই কর্মসূচিটি ৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দুটি পর্বে আয়োজন করা হয়েছিল। এর আওতায় লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের ৭৪টি গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়। সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, সারা দেশে একটি অনলাইন ক্যুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৪০০ জনেরও বেশি যুবক-যুবতীকে এই কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়। এই প্রতিযোগিতায় তিন লক্ষেরও বেশি তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছিলেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে, অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে থেকেছেন। তাঁরা স্বচ্ছতা অভিযান, সরকারি প্রকল্প নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার, যুব সম্মেলন, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, বৃক্ষরোপণ, মিনি মডেল পঞ্চায়েত সিমুলেশন, স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে আলাপচারিতা এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মতো বিভিন্ন কাজে অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাপচারিতা

২০২৬ সালের 'বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষরা সাধারণ সুযোগ-সুবিধার থেকেও দেশের সুরক্ষা এবং একতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই এই গ্রামগুলি প্রত্যন্ত এলাকা নয়। বরং, দেশের শক্তির অন্যতম কেন্দ্র। তিনি বলেন, "আমাদের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা আর দেশপ্রেমের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখা যায়। কখনও কখনও মনে হয়, নিজেদের থেকেও দেশ তাদের কাছে বড়। আগে দেশ, তারপর সুযোগ-সুবিধা। এই গ্রামগুলি থেকে এমনই এক স্বতন্ত্র ধারণা পাওয়া যায়।"

'প্রথম গ্রাম'-এর জীবনযাত্রা

প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, 'বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ' কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং লাদাখের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা সেখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পেশা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশের বিভিন্ন জেলার ছেলেমেয়েরা হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং লাদাখের গ্রামগুলিতে যাক। তারা নিজের চোখে দেখুক সেখানকার মানুষ কীভাবে জীবন কাটান, তাঁদের খাদ্যাভ্যাস, পেশা, সংস্কৃতি কেমন এবং জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে তাঁরা কতটা সচেতন।"

তরুণদের অংশগ্রহণের প্রশংসা

প্রধানমন্ত্রী মোদী নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে বলেন, তারা এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গিয়েছিলেন। তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তরুণদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ছিল দেশের তরুণরা এই সমস্ত বিষয়গুলি নিজেরা অনুভব করুক। সারা দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখা গেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। প্রায় ৩ লক্ষ তরুণ-তরুণী এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছিল এবং ৪০০ জনেরও বেশি নির্বাচিত হয়েছে। আপনারা সবাই এক সপ্তাহ ধরে এই দুর্গম, অচেনা গ্রামগুলিতে কাটিয়েছেন। আপনারা সেখানকার জীবনযাত্রাকে অনুভব করার চেষ্টা করেছেন, স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁদের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে!"

PMO জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে, সামাজিক অংশগ্রহণ, জাতীয় সংহতি এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে। 

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।