বুধবারই লাদাখে নতুন করে সংঘাতের আবহে পাবজি সহ ১১৮টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ২৪ ঘণ্টা কাচার আগেই খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব ওয়েবসাইটের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে হানা দিল হ্যাকাররা। জানা যাচ্ছে হ্যাকাররা কিছু সময়ের জন্য হ্যাক করে নেয় অ্যাকাউন্টটিকে। ট্যুইটারের তরফেও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। ট্যুইটার হ্যান্ডলটি হ্যাক করার পর, সেখান থেকে বেশ কয়েকটি ট্যুইট করা হয়। সেই সব ট্যুইটগুলিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে রিলিফ ফান্ডে টাকা দান করার আবেদন করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন: করোনা আবহে সংসদের বাদল অধিবেশনে বাতিল হল 'প্রশ্নোত্তর পর্ব', ছুটিও পাবেন না সাংসদরা

বৃহস্পতিবার হ্যাকের ঘটনা স্বীকার করেছে ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিবৃতি দিয়ে ট্যুইটার জানিয়েছে, ‘এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা সচেতন। এবং অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত রাখার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। ঘটনা নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে অন্য অ্যাকাউন্টগুলিতে এর প্রভাব পড়েছে বলে আমাদের জানা নেই।’’ যদিও মোদীর অফিস এই হ্যাকের ব্যাপারে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।

 

 

বিটকয়েন সম্পর্কিত একাধিক টুইটে হ্যাকারেরা লেখে, “আমি আপনাদের সবাইকে পিএম ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড ফর কোভিড-১৯ ফান্ডে উদারভাবে অনুদানের আবেদন করছি।” ক্রিপ্টো কারেন্সি দিয়ে অনুদান দেওয়ার কথা বলে হ্যাকারেরা। পরে অবশ্য ওই টুইট মুছে ফেলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যাক্তিগত ওবেসাইটের সঙ্গে যুক্ত ওই ট্যুইটার হ্যান্ডলটির নাম ‘নরেন্দ্রমোদী_ইন’। ২০১১-তে খোলা ওই ট্যুইটার হ্যান্ডেলে রয়েছে ২৫ লক্ষ ফলোয়ার। বৃহস্পতিবার ভোররাতে হ্যাক করার পর সেখান থেকে বেশ কয়েকটি টুইই করে হ্যাকাররা।  হ্যাক করার পর ট্যুইটে বলা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী জাতীয় রিলিফ ফান্ডে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অনুদান দিতে। ক্রিপ্টোকারেন্সির দেওয়ার এই টুইটগুলি অবশ্য বর্তমানে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বুঝতে না পারা গেলেও পরে অনেকেই বুঝে যান হ্যাক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট।

 

 

ইতিমধ্যে ‘নরেন্দ্রমোদী_ইন’ ট্যুইটার হ্যান্ডল হ্যাকারদের থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই ট্যুইটগুলি সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই ট্যুইটের স্ক্রিনশট ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। মোদীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হ্যাকারেরা নিজেদের নাম জন উইক গ্রুপ বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, পেটিএম মলের ডেটা চুরির সঙ্গে এই দলের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

তবে এই প্রথম হ্যাকারদের থাবায় কোনও ভিভিআইপি অ্যাকাউন্ট পড়েনি। এর আগেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চলতি বছর জুলাইয়ের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বিডেন, ওয়ার্ন বাফেট, জেফ বেজোস, বারাক ওবামা, জো বিডেন, বিল গেটসের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ট্যুইটার হ্যান্ডল হ্যাক করা হয়েছিল। তাঁদের  অ্যাকাউন্ট থেকেও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ট্যুইট করা হয়। এমনকি এতে উবের ও অ্যাপলের কর্পোরেট অ্যাকাউন্টগুলিও প্রভাবিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ফের চিনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ, দক্ষিণ প্যাংগং লেকের সব পোস্টের দখল ভারতীয় বাহিনীর হাতেই

স্বনামধন্য ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে এভাবে হ্যাকার হানায় প্রশ্ন উঠছে। ট্যুইটারের অন্দরে ঢুকে এত সহজে এইসব সুপার-হেভিওয়েট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট 'হ্যাক' হলে তাহলে বাকি কারও অ্যাকাউন্টের তথ্য যে সুরক্ষিত নয়, তা বোঝাই যাচ্ছে বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। অনেকেই আবার এভাবে হ্যাকার হানার পিছনে সংস্থার  কোনও প্রাক্তন এবং বর্তমান কর্মীর যোগসাজশের আশঙ্কাও করছেন।