Rahul Vs BJP CM: সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআর ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পাল্টা একযোগে সংবাদ সম্মেলন করলেন বিজেপির ১২ মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কংগ্রেসের দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগে কে কী বললেন, জানুন।
একদিকে রাহুল গান্ধী অন্যদিকে বিজেপির প্রায় এক ডজন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর ও মুখ্যনির্বাচন কমিশনার CEC জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রের আকার নিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী অভিযোগের মোকাবিলা করতে রবিবার থেকেই বিজেপি তাদের দখল করা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সাংবাদিক বৈঠকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও রয়েছেন।
বিজেপির বিবৃতি
একটি বিবৃতি জারি করে বিজেপি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীরা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নত তোলার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বদনাম করার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব রাজ্যে বিজেপি বা এনডিএ জোটের সরকার নেই সেখানে বিজেপি সভাপতি ও দলের নেতারাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন এই ইস্যুতে।
কংগ্রেসের অবস্থান
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে সামনের সারিতে রয়েছেন। দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট প্রকাশের পরই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। সেখান থেকেই জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিশানা করেছেন অমিত শাহকেও। সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, 'সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে তখন তাতে সাঁতার কাটতে আমার ভালো লাগে। এটি আপনাকে শেখায় যে উত্তাল পরিস্থিতিও এক ধরনের শান্ত অবস্থা।' রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
কংগ্রেস আজ, সোমবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তার আগেই কেসি ভেনুগোপাল রবিবার ১০০০ -এর বেশি জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানেই আজকের রণকৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের দাবি জ্ঞানেশ কুমারের আমলে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেগুলি বাতিল করতে হবে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
যদিও বিজেপির দাবি নির্বাচন কমিশনের প্রেস নোটেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। রাজ্য ও রাজধানীতে একযোগে বক্তব্য রাখার সময়ই বিজেপি একই অবস্থান নিয়েছে। বিজেপি নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের করা প্রতিটি অভিযোগ তুলে ধরে পয়েন্ট করে তার জবাব দিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে শনিবার কমিশনের তরফে করা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনকেই পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন হিসেবে দাবি করেছে।
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশঃ 'কোনও ভোট চুরি হয়নি , রাহুল গান্ধীর মস্তিষ্ক চুরি হয়ে গিয়েছে'। যোগী আদিত্যনাথের কথায় বিরোধীদলগুলি এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছে, 'ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে। এখন দেশে বুথ দখল আর কাজ করে না।' পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'কংগ্রেস কেরলে এসআইআরকে সমর্থন করেছে। কারণ কংগ্রেস সেখানে জিতেছিল। আর বাংলায় হেরে যাওয়ার কারণে এসআইআর-এর বিরোধিতা করেছে।' উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, 'অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি নোটকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থান করে প্রতিষ্ঠানের বদনাম করা অন্যায়।' রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা বলেছেন, 'বিরোধী দল তাদের নির্বাচনী পরাজয় ঢাকতে মিথ্যাচার করেছে।' ছত্তিশগড়ের বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, 'কংগ্রেস ১০০টিরও বেশি নির্বাচনে হেরে দেশবিরোধী আচরণ করছে। ' দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা শর্মা বলেছেন, 'এই নির্বাচন কমিশন আগে পুরোপুরি কংগ্রেসের নির্দেশে কাজ করতো।' হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি বলেছেন, 'বিরোধীদের এখন একটাই লক্ষ্য, প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালজ করা আর সাংবাধানিক প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা।'মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেছেন, গান্ধী তাঁর দল ও পরিবার কোনও টিকে সামলাতে পারেননি। তাই এখন মিথ্যাচার করেছেন। ' গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল বলেছেন, 'কংগ্রেস যখন ভোটে জেতে তখন গণতন্ত্রের জয়। আর মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি জিতলেই ভোট চুরি আর কারচুপি!'


