সিএএ আর এনআরসি নিয়ে মন্তব্য করলেন সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি জানিয়েছেন এটি খুবই জরুরি। তবে দেশের সংখ্যালঘুদের ভয়ের কিছুই নেই।  

আবারও ধর্ম নিয়ে বড় বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেছেন নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বা CAA আর জাতীয় নাগরিক নিরবন্ধক আইন বা NRC ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের কোনও ক্ষতি করবে না। একই সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দলগুলি সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণের চেষ্টা করছে তাদের পরীক্ষা করে দেখারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ইন্দিরা গান্ধীর লেখা পুরনো চিঠি কাঁপাচ্ছে নেটদুনিয়া, সুগন্ধী নিয়ে ভাইরাল চিঠি কাকে লিখেছিলেন জানুন

একই সঙ্গে মোহন ভাগবত বলেছেন সিএএ বা এনআরসি কোনও ভারতীয় নাগরিকদের বিরোধী নয়। ১৯৫০ সালের নেহেরু-লিয়াকত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল প্রতিটিদেশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে। ভারত তা অনুসরণ করছে চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে পাকিস্তান সেই চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংঘের প্রধান। এনআরসি সিএএ সম্পর্কি একটি বই লিখেছেন গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ননীগোপাল মহন্ত। সেই বইয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েই এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

উত্তরাখণ্ড সীমান্তেও লাদাখের মত পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে চিন, সতর্ক ভারত

ভাগবত আরও বলেছেন, ভারতের ঐতিহ্যই হল এই দেশটি সর্বদা বহিরাগতদের স্বাগত জানায়। ভাষা, ধর্ম, খাবারের অভ্যাস অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয় না। তিনি আরও বলেছেন ১৯৩০ সাল থেকেই পরিকল্পিতভাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটনার চেষ্টা করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটিকে ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত করার। বাংলা, অসম, সিন্ধু আর পঞ্জাব প্রদেশের কাছে এটাই সত্য ছিল। ভারত ভাগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারি হয়েছিল পাকিস্তান। সেই সময় এই পরিকল্পনাটিকে কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত করেছিল। বাংলা আর পঞ্জাবের কিছুটা অংশ পাকিস্তানের গেলেও অসম ভাগ হয়নি। তিনি আরও বলেন পাকিস্তানের কিছু মানুষ পরিস্থিতির চাপে পড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। 

কেন্দ্রের অক্সিজেন ঘাটতি নিয়ে মন্তব্যের প্রতিবাদ, বিরোধীদের মুখোশ খুললেন নেটিজেনরা

ভাগবত আরও জানিয়েছেন বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা তাঁদের এদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাই তাঁদের উপেক্ষা করা যায় না। সেই কারণেই সিএএ প্রয়োজনীয় বলেও দানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান বাংলাদেশ, থেকে আশা শরণার্থীদের এদেশের নাগরিকত্বে দেওয়ার জন্যই এজাতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের এদেশের নাগরিক নন তাঁদের খুঁজে বার করতেই এনআরসির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

ইন্দিরা গান্ধীর লেখা পুরনো চিঠি কাঁপাচ্ছে নেটদুনিয়া, সুগন্ধী নিয়ে ভাইরাল চিঠি কাকে লিখেছিলেন জানুন

মোহন ভাগবতের কথায় বর্তমানে সিএএ আর এনআরসি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। এটি রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েছে। হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনিও ভাগবতের কথার রেশ টেনে বলেন নিপীড়িত মানুষদের প্রতি তাঁদের কর্তব্য রয়েছে। আর সেই কারণেই সিএএ সমর্থন করা হয়েছে। তবে অসমীয়াদের পরিচয় আর সংস্কৃতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।