চলতি মাস থেকে ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে লকডাউনের নিয়ম। আর্থিক ক্রিয়াকলাপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় আনলক-১ শুরু হয়েছে দেশে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রীতিমত উদ্বেগজনক। পয়লা জুন যেদিন থেকে লকডাউন ৫.০  বা আনলক ১ শুরু হয়েছে সেদিনই আক্রান্তের সংখ্যা ১লক্ষ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছিল। আর তার মাত্র দুদিন পরেও দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে মে মাস থেকেই। আর্থাৎ লকডাউন চলাকালীন। গত ৩০  জানুয়ারি দেশে প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। যিনি কেরলের বাসিন্দা। ফিরেছিলে করোনার আঁতুড় ঘর চিনের ইউনান প্রদেশ থেকে। তারপর থেকে দেশে ক্রমশই বাড়ছে করোনা প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশগুলির ক্রমতালিকায় ভারত পৈঁছে গেছে সপ্তম স্থানে। পিছনে ফেলে দিয়েছে চিনকেও।

ভারতে করোনাভাইরাসের চালচিত্রঃ
জানুয়ারি ৩০- দেশে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান (কেরলের ছাত্র, যিনি চিনে থাকতেন)
এপ্রিল ১৪ -- আক্রান্তের সংখ্যা ১০,০০০+
এপ্রিল ২২-- আক্রান্তের সংখ্যা ২০,০০০+
মে ৩-- আক্রান্তের সংখ্যা ৪০,০০০+
মে ১০ -- আক্রান্তের সংখ্যা ৬০,০০০+
মে ১৫-- আক্রান্তের সংখ্যা ৮০,০০০+
মে ১৯-- আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ+
জুন ৩-- আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ +


গত মে মাসের শেষের দিক থেকেই কিছুটা হলে শিথিল করা হয়েছিল লকডাউন। আর্থিক কার্যকলাপশুরুর দিকে জোর দেওয়া হয়েছিল। শুরু হয়েছিল উড়ান পরিষেবাও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে অনুযায়ী মাত্র ১৬ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। তাই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশের একদল চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন মহামারী গোষ্টী সংক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে দেশে। তাই এই মুহূর্তে লকডাউন শিথিল করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে লকডাউন কোনও সমাধান হতে পারে না। 

ভার্চুয়াল না সেন্ট্রাল হল, কোথায় কীভাবে হবে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন তানিয়েই জল্পনা ...

করোনা যুদ্ধের দিশারী কেরল, এবার আরও ৪ রাজ্যের সঙ্গে লকডাউন পরবর্তী আর্থিক পুনরুদ্ধারের নেতৃত্বে ...

সন্তানের কাছে থেকেও ছোঁয়া যাবে না, প্রবল যন্ত্রণার গল্প শোনালেন মুম্বইয়ের এক মা ...

 

পয়লা জুন থেকে আনলক ১ চালু হওয়ায় অনেক মানুষই বাড়ি থেকে বার হচ্ছেন।দেশের একাধিক মোট্রো সিটিতে দেখা গেছে কোনও রকম গুরুত্ব দেওয়া হয়নি নিরাপদ শারীরিক দূরত্বেকে।   যারমধ্যে রয়েছে কলকাতা। এখানে বাস চলাচল শুরু হলেও মানা হচ্ছে না করোনা সংক্রান্ত  স্বাস্থ্য বিধি। একই ছবি ধরা পড়েছে দিল্লিতে। যেখানে ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে দোকান বাজার। আর শারীরিক দুরত্ব মানা হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে  যোগীর রাজ্যে। 

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।