কে এই সোনাম ওয়াংগিয়াল? ১৯৮৪ সালে লাদাখের জন্য অনশন করে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে লেহ আসতে বাধ্য করেছিলেন। আজ তাঁর ছেলেও সেই একই পথে হাঁটছেন।

Sonam Wangyal and Sonam Wangchuk: শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ ৫৯ বছর বয়সী অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। ওয়াংচুক গত ২১ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুলিশ এই ব্যবস্থা নেয়। ওয়াংচুকের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ এবং ডাক্তারি পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই ৪২ বছরের পুরনো একটা গল্প আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। গল্পটা সোনাম ওয়াংচুকের বাবা সোনাম ওয়াংগিয়ালের। খুব কম লোকই জানেন যে, তাঁর বাবাও লাদাখের দাবিদাওয়া নিয়ে অনশন করেছিলেন। আসুন, জেনে নেওয়া যাক কে এই সোনাম ওয়াংগিয়াল এবং তখন কী হয়েছিল…

সোনাম ওয়াংগিয়ালের জন্ম ১৯২৩ সালে, এক অত্যন্ত গরিব কৃষক পরিবারে। ছোটবেলায় বিশেষ সুযোগ-সুবিধা না পেলেও, তাঁর মধ্যে কঠোর পরিশ্রম আর সাহসের কোনও কমতি ছিল না। ১৯৬৫ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস তৈরি করেন। সেই সময়ে তিনি ছিলেন এভারেস্ট জয় করা সর্বকনিষ্ঠদের মধ্যে একজন। এই সাফল্যের পর সারা দেশে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।

এভারেস্ট জয়ের পর তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীর বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। পরে বিধায়ক এবং মন্ত্রীও হন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল, তিনি লাদাখের মানুষের অধিকার ও পরিচয়ের জন্য সব সময় আওয়াজ তুলেছেন।

১৯৮৪ সালে সোনাম ওয়াংগিয়াল অনশন শুরু করেন। তাঁর দাবি ছিল, লাদাখের বেশ কয়েকটি উপজাতি গোষ্ঠীকে তফসিলি উপজাতি বা Scheduled Tribe (ST)-এর মর্যাদা দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, এর ফলে এই সম্প্রদায়গুলি শিক্ষা, চাকরি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ভালো সুযোগ পাবে। এই আন্দোলন এতটাই বড় আকার নেয় যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকেও এই বিষয়ে নজর দিতে হয়। যদিও সেই মুহূর্তে দাবি পূরণ হয়নি, কিন্তু এই আন্দোলন গোটা দেশের নজর লাদাখের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

অনশন শেষ হওয়ার পরেও লড়াই থামেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর, ১৯৮৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান মেনে জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কিছু উপজাতি গোষ্ঠীকে তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেয়। এর মধ্যে লাদাখের অনেক গোষ্ঠীও ছিল। এই দীর্ঘ আন্দোলনে সোনাম ওয়াংগিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং এটিকে সেই আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

এখন সোনাম ওয়াংচুকও নিজের দাবিদাওয়া নিয়ে অনশনে বসেছেন। শনিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবা ও ছেলের ইস্যু আলাদা হলেও, দু'জনেই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে অনশনকেই হাতিয়ার করেছেন। আর এই কারণেই আজ আবার সোনাম ওয়াংগিয়ালের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।