বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে এবার বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। জ্বালানি বাঁচাতে এখন থেকে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিনে (সোমবার ও শুক্রবার) মামলার শুনানি হবে শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। বিচারপতিদের গাড়ি ভাগাভাগি (কারপুল) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ৫০% পর্যন্ত কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের জ্বালানি সংরক্ষণের পরামর্শ মেনে সুপ্রিম কোর্ট একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এখন থেকে সপ্তাহের কিছু নির্দিষ্ট দিনে মামলার শুনানি হবে শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

ভার্চুয়াল শুনানির নির্দেশ
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের জারি করা একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে: "এখন থেকে মিসলেনিয়াস ডে, অর্থাৎ সোমবার ও শুক্রবার এবং অন্যান্য আংশিক কর্মদিবসে সমস্ত মামলার শুনানি শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই নিয়মই চালু থাকবে।"
রেজিস্ট্রিকে সময়মতো ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের লিঙ্ক পাঠানো এবং স্থিতিশীল ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, "রেজিস্ট্রিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের লিঙ্ক দ্রুত পাঠানো হয়, স্থিতিশীল পরিষেবা বজায় থাকে এবংমাননীয় আদালতের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য সময়মতো প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়।"
জ্বালানি বাঁচাতে অন্যান্য পদক্ষেপ
বিচারপতিদের জন্য কারপুলিং
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিচারপতিদের নিজেদের মধ্যে কার-পুলিং অর্থাৎ একই গাড়িতে যাতায়াত করার ব্যবস্থা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, "সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিরা নিজেদের মধ্যে কার-পুলিং ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার জন্য সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"
কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম
এছাড়াও, আদালতের কাজে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করে রেজিস্ট্রি-র প্রতিটি শাখার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মী সপ্তাহে দু'দিন বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থাটি রোটেশনের ভিত্তিতে চলবে। যে কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি পাবেন, তাঁদের ফোনে সব সময় উপলব্ধ থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে অফিসে আসার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, "সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের উপর অর্পিত কাজগুলি সময়মতো শেষ হয়।"
তবে, সুপ্রিম কোর্ট এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি কোনও রেজিস্ট্রার মনে করেন যে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না, তবে তিনি সেই শাখা বা বিভাগের জন্য এই ব্যবস্থা "সীমাবদ্ধ বা পরিবর্তন" করতে পারবেন।


