সোমবার সন্ধ্যায় পুনে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় মুম্বই-সোলাপুরগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সময় একটি ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে ট্রেনটির চতুর্থ কোচের ট্রলি লাইন থেকে নেমে যায়।
সোমবার সন্ধ্যায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল দেশের অন্যতম আধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস । মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (CSMT) থেকে সোলাপুরগামী ট্রেনটি পুনে স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় কারও মৃত্যু বা আঘাতের খবর মেলেনি।
রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ট্রেনটি যখন প্ল্যাটফর্মে ঢুকছিল, সেই সময় চতুর্থ কোচের একটি ট্রলি ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে লাইন থেকে নেমে যায়। সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (২২২২৫ সিএসএমটি-সোলাপুর) সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ পুনে স্টেশনে পৌঁছচ্ছিল। প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সময় ট্রেনটির গতি কম ছিল। ঠিক তখনই চতুর্থ কোচের ট্রলিটি ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনাটি স্টেশনের প্রবেশপথে ঘটে, যেখানে ট্র্যাকের গঠন সাধারণ ট্র্যাকের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। খবর পেয়েই রেলের টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
কী এই ডায়মন্ড ক্রসিং, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটল?
রেললাইনের উপর ডায়মন্ড ক্রসিং হল এমন একটি অংশ, যেখানে দুটি ভিন্ন লাইন একে অপরকে অতিক্রম করে। অনেকটা শহরের রাস্তার চৌমাথার মতো। প্রযুক্তিগতভাবে এটি একটি সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এখানে ট্র্যাকের সংযোগ এবং মুভমেন্ট বেশ জটিল। জানা গেছে, পুনে স্টেশনের এই অংশটি ভারতীয় রেলের ইয়ার্ড রিমডেলিং প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই আপগ্রেড করার কাজ চলছিল।
রেল প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও যাত্রীর আহত হওয়ার খবর নেই। ট্রেনের গতি কম থাকা এবং প্ল্যাটফর্মের কাছাকাছি হওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হয়নি। সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয় এবং স্টেশনে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া হয়। ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য আতঙ্ক ছড়ালেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর রেলের টেকনিক্যাল টিম লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ডায়মন্ড ক্রসিং এলাকার প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরই আসল কারণ জানা যাবে। রেল আধিকারিকদের মতে, সুরক্ষার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। এই ঘটনা আবারও ট্র্যাকের সুরক্ষা, ইয়ার্ড আধুনিকীকরণ এবং স্টেশন পরিকাঠামোর মতো বিষয়গুলিকে সামনে নিয়ে এল। যদিও এবার বড় কোনও ক্ষতি হয়নি, তবে এই ঘটনা রেলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।


