খুব বেশি দূর থেকে গুলি করা হয়নি বিকাশকে  ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান গ্যাংস্টারের শরীরে মিলেছে ১০টি আঘাতের চিহ্ন  জামিন নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ধুয়ে দিল শীর্ষ আদালত

গত ১০ জুলাই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয় গ্যাংস্টর বিকাশ দুবে। কিন্তু কানপুরের ডনের এই এনকাউন্টার নিয়ে রয়ে গিয়েছে বহু প্রশ্ন, সঙ্গে অসঙ্গতিও। বিকাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও সেই সব প্রশ্নের জবাব কার্যত অস্পষ্টই থেকে গেল। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রকাশ্যে আসা বিকাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬ বার গুলি করা হয়েছিল গ্যাংস্টারকে। তার মধ্যে ৩টি গুলি বিকাশের শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে বিকাশের শরীরে মোট ১০টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। যার মধ্যে ৬টি বুলেটের ক্ষত।

বিকাশ দুবের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে একটি গুলি তার ডান কাঁধের পাশে লেগে বেরিয়ে গিয়েছিল। আর দু’টি গুলি লেগেছিল বুকে। তারপর সেই দুটো বুলেট শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। তবে কতদূর থেকে বিকাশের দিকে গুলি করা হয়েছিল সে ব্যাপারে রিপোর্টে কিছু বলা হয়নি। তবে এসটিএফের সঙ্গে বিকাশের যে সংঘর্ষ হয়েছিল তার উল্লেখ রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। কারণ বিকাশের যে কটা গুলি লেগেছিল সবকটিই এসেছিল সামনের দিক থেকে। বুলেটের ক্ষত ছাড়া বাকি আঘাতের চিহ্ন পালানোর সময় পড়ে গিয়ে বা অন্য কোনও ভাবে লেগেছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। 

আরও পড়ুন: গ্যাংস্টার বিকাশের সন্ধান দেওয়ার পুরস্কার মূল্য ৫ লক্ষ পাবে কে, লোক খুঁজছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

এদিকে যে ভাবে গুলিতে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গিয়েছে বিকাশের শরীর, তাতে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, খুব বেশি দূর থেকে গুলি করা হয়নি। যদিও বিকাশ দুবের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং ঘটনার আকস্মিকতায় মৃত্যু হয়েছে তার।

আরও পড়ুন:হাজার সমালোচনার মধ্যেও ম্যাজিক অব্যাহত, মহামারী ও লকডাউনের সংকটকালেও জনপ্রিয়তায় নজির মোদীর

এদিকে গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের এনকাউন্টার নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই বিকাশের মতো অপরাধী এতদিন জামিনে মুক্ত ছিল কীভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ভর্ৎসনা করল শীর্ষ আদালত।

বিকাশ দুবের এনকাউন্টার মামলার শুনানি শুরু হতেই উত্তরপ্রদেশ সরকারকে রীতিমত ধুয়ে দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। দুবেকে গ্রেফতার এবং এনকাউন্টার উভয় ক্ষেত্রেই যোগী সরকার পদ্ধতিগত বাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান প্রধান বিচারপতি বোবদে। ৬০টিরও বেশি মামলায় বিকাশের নাম থাকা সত্ত্বেও সে কীভাবে জামিনে মুক্ত ছিল তা নিয়েও হতভম্ভ হয়ে যান বিতারপতি বে়ঞ্চের সদস্যরা।

 এদিকে সরষের মধ্যেই ভূতের অস্তিত্ব খুঁজে বের করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফ। স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের গুলিতে নিহত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের ফোনের কল রেকর্ড ঘাঁটতে গিয়ে চোখ কাপালে উঠেছে পুলিশের। দেখা গিয়েছে, দুটি ফোন নম্বরে ক্রমাগত ফোন করেছে বিকাশ। সেই ফোন নম্বর ধরে খোঁজ খবর করতেই দেখা যায়, ফোন নম্বর দুটি বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিস কনস্টেবলের।

তদন্তে উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশের বিকরু গ্রামের যেখানে পুলিশের ওপরে হামলা চালায় বিকাশ দুবের দল, সেই ঘটনার সময় পুলিশের দলে ছিল না ওই দুই কনস্টেবল। কিন্তু পুলিশের গতিপ্রকৃতি তারা নিয়মিত জানিয়ে দিতে দুবেকে। শুধু তাই নয়য়, বিকাশ দুবের জন্য বেআইনি অস্ত্রের ব্যবস্থাও তারা করে দিত।