দাদুর হাত ধরেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তিন বছরের ছোট্ট নাতি। দাদু আর ছোট্ট নাতির গন্তব্য ছিল জম্মু কশ্মীরের শ্রীনগর থেকে হান্ডওয়ারা। কিন্তু রাস্তাতেই তাদের জন্য ওতপেতে বসেছিল বিপদ। সোপোরে বুধবার সকালে সিওয়ারপিএফ জাওয়ানদের সঙ্গে গুলি বিনিময় হয় জঙ্গিদের। সেই গুলির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে বেঘোরে প্রাণ যায় দাদুর। রাস্তাতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি। 

সেনা-জঙ্গি লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে  গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় দাদুর দেহ। সেই রক্তমাখা দেহের ওপরই বসে থাকে তিন বছরের ছোট্ট শিশু। সেই ছবি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ভূস্বর্গে। মনখারাপ করা ছবি ঘুরতে থাকে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত।  অনেকেই আবার স্টেশনে অভিবাসী শ্রমিক মায়ের মৃতদেহ নিয়ে সন্তানের খেলার প্রসঙ্গ তুলে আনেন। 

পরে অবশ্য পুলিশ ও সেনা কর্মীরা তিন বছরের শিশুটিকে উদ্ধার করে। পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে। কিন্তু পুলিশের গাড়িতে বসেও চোখের জল বাঁধ মানেনি শিশুটির। একই সঙ্গে প্রকাশ পায় চরম আতঙ্কও। লজেন্স বিস্কুট দিয়েও থামান যায়নি ছোট্ট শিশুর কান্না। মায়ের কাছে যাওয়ার আর্জি নিয়ে চোখের জল ফেলতে থাকে ছোট্ট ছেলেটি। শৈশবেই চরম হিংসা দেখে অসহায় হয়ে ওঠে শিশু মন যা ধরা পড়ে তার চোখেমুখে।  

করোনার কোপে গণেশ চতুর্থীর রং ফিকে হচ্ছে , আরব সাগরের হাতাশা কী আঁচ ফেলবে বাংলাতেও ...

গালওয়ান নিয়ে সুর নরম করলেও প্যাংগং-এর দাবি ছাড়তে নারাজ চিন, ভারত নিয়ে যাচ্ছে ১২টি ভেসেল ...
 কাশ্মীরি পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশুটিকে উদ্ধারের ছবি পোস্ট করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের এক পুলিশ কর্মী জানিয়েছেন উদ্ধারের সময়ও ভয়ে কাঁপছিল শিশুটি।  দাদুকে কিছুক্ষণ ডাকাডাকিও করে শিশুটি। কিন্তু দাদু সাড়া না দেওয়ায় ভয়ে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। পরে অবশ্য উদ্ধার করা হয় তাকে। 


জঙ্গি হামলার ঘটনা ক্রমশই বাড়ছে কাশ্মীরে। সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপও করছে সেনা। গত সপ্তাহে অনন্তনাগে সেনা জঙ্গি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় একটি শিশুর।