অনেকেই বলছে চিন আরশোলা খায় তাই এই দলের চিনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। অনেকে আবার 'পাকিস্তানি' বলেও দাগিয়ে দিচ্ছে এই দলের সমর্থকদের। কিন্তু আসলে কোথা থেকে এল এই " আরশোলার দল"?

রাজনৈতিক দলের নাম " আরশোলা"! তা আবার হয় নাকি! হঠাৎ এমন 'উদ্ভট' নাম কেন? কেনই বা তাঁদের এত আন্দোলন? অনেকেই বলছে চিন আরশোলা খায় তাই এই দলের চিনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। অনেকে আবার 'পাকিস্তানি' বলেও দাগিয়ে দিচ্ছে এই দলের সমর্থকদের কিন্তু আসলে কোথা থেকে এল এই " আরশোলার দল"?

আসলে সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আরশোলার তুলনা করেন।

তিনি বলেন "কিছু তরুণ আছে, যারা আরশোলার মতো। তারা কোনও পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না। তারপর তাদের মধ্যে কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ আরটিআই কর্মী হয়"। এরপর থেকেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একে একে ককরোচ বা আরশোলা হিসাবে যোগ দিতে থাকে 'ককরোচ জনতা পার্টি' র সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

এরপর এটি একটি প্রতিবাদী দল হিসাবেই পরিচিতি পেতে থাকে যাদের মূল কাণ্ডারি নতুন প্রজন্মের সেই সব ছেলে মেয়েরা যাদের একটি কীটের সঙ্গে তুলনা করেন চিফ জাস্টিস। এই আরশোলারাই মূলত দিল্লি কাঁপাচ্ছেন বর্তমানে। তাঁদের ঠেকাতে, দেওয়া হয়েছে কারেন্ট লাগানো বিরাট ব্যারিকেড, চালানো হচ্ছে লাঠি, ছোড়া হচ্ছে টিয়ার গ্যাস। দলে দলে ভিড় বাড়ছে আরশোলাদের। কিন্তু কেন? কীসের দাবি তাদের?

খুব সাধারণ ভাবে দেখলে একটাই দাবি। কর্মসংস্থান। পাতি কথায় বলতে গেলে পেটের ভাত। এই কর্মসংস্থান পেতে গেলে যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা হয়, তাতেই যদি গলদ থাকে তাহলে মেধার দাম কোথায়? এই একটাই প্রশ্ন তাদের। এই কারণেই এত আন্দোলন, রক্তারক্তি দিল্লি জুড়ে।

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পরে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে এই আরশোলারা। দলে দলে আন্দোলনে নামতে শুরু করে তাঁরা। ঠিক কী কা দাবি রয়েছে এই আন্দোলনকারীদের?

এক, প্রতিযোগিতামূলক প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয়, এই বিষয়ে যাতে আরও একটু কঠোর হয় সরকার। দুই, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে স্বচ্ছতা থাকে। তিন, যুবকদের আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং চার দোষীরা যাতে সঠিক শাস্তি পায়, এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

এই বিক্ষোভে আরশোলাদের সঙ্গে যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তিনি অনশন করবেন। তারপরেই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। এবার প্রশ্ন হল শুধু এই কারণে, এই দাবির জন্য এত ক্ষোভ কেন তৈরি হল? কারণ একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এমন একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে যেটার একটি আন্তর্জাতিক মান আছে। যে পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের চিকিৎসক নির্বাচিত হতে পারে। এই একটি পরীক্ষার জন্য দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষা করে থাকে ছেলেমেয়েরা থুড়ি আরশোলারা।

আসলে যে দেশে তরুণ প্রজন্ম যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তাদেরই জ্যান্ত মানুষ বলে ধরা হয় না এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তাদের সরাসরি আরশোলাদের সঙ্গে তুলনা করেন সেই দেশে সত্যিই নিটের মতো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসটা কী আর এমন ব্যাপার! তার চেয়ে বরং তাদের সন্ত্রাসবাদী দাগিয়ে দেওয়া অনেক সহজ, আর যাই হোক চাকরি তো দিতে হচ্ছে না!! তবে সাবধান আরশোলারা কিন্তু আবার হুট করে মরে না! ধীরে ধীরে আস্ত একটা প্রাসাদও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারে একসঙ্গে জোট বাঁধলে…..।