শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি  অরুণ মিশ্র প্রবল ভর্ৎসনা করলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে। টেলিকম কোম্পানিগুলোর বকেয়া মেটানোর প্রশ্নে আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য় করলেন। সলিসিটর জেনারেলের উদ্দেশে  তিনি স্পষ্টই বললেন,  "আমরা কি সুপ্রিম কোর্টে তুলে দেব? এর পিছনে কি টাকার খেলা নেই?   কারা এসব স্পন্সর করছে ? সবরকম দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।"

শুক্রবার দুপুরে আদালতের এই মনোভাবে কার্যত তোলপাড় পড়ে গিয়েছে টেলিকম শিল্প মহলে।  দেশের শীর্ষ আদালত এদিন স্পেকট্রাম ব্য়বহারের চার্জ ও লাইসেন্স ফি বাবদ কেন্দ্রীয় সরকারের পাওনা মিটিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় টেলিকম সংস্থাগুলিকে। সেই সঙ্গে  বকেয়া আদায়ের প্রশ্নে কেন্দ্রের ঢিলেমি নিয়েও প্রশ্ন তোলে।  জানিয়ে দেয়, ১৭ মার্চের মধ্য়ে টেলিকম সংস্থাগুলি তাদের বকেয়া মিটিয়ে না-দিলে আদালত অবমাননার দায়ে পড়বে।  আদালতের  কঠোর মনোভাব দেখে সন্ধ্য়ায় কেন্দ্র জানিয়ে দেয়, শনিবারের আগেই, অর্থাৎ শুক্রবার রাত বারোটার আগেই টেলিকম সংস্থাগুলিকে তাদের বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।

এদিন বিচারপতি অরুণ মিশ্র, বিচারপতি এস আব্দুল নজির ও বিচারপতি এম আর শাহের ডিভিশন বেঞ্চের রায় ও কেন্দ্রের নির্দেশিকার জেরে কার্যত তোলপাড় টেলিকম শিল্প। ভোদাফোন-আইডিয়া ও এয়ারটেলের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এই দুই সংস্থার কাছ থেকে মোট  প্রাপ্য়  হল ১ লক্ষ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ভোদাফোন-আইডিয়া আগেই জানিয়েছে,  সংস্থার আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। অতএব ত্রাণ না-পেলে তারা তাদের বকেয়া ৫৩ হাজার কোটি  টাকা মেটাতে পারবে না। তেমন হলে তারা তাদের ব্য়বসা গুটিয়ে ফেলবে।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, টেলিকম সংস্থাগুলিকে তাদের বকেয়া  মিটিয়ে দেওয়ার জন্য় সুপ্রিম কোর্ট ১৭ মার্চ অবধি সময় দিলেও, কেন্দ্রীয় সরকার কেন শুক্রবার মাঝরাতের মধ্য়েই বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয় কাউর কাছেই। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে, বিএসএনএল যেখানে কার্যত ধুঁকছে,  সেখানে এবার কি তবে 'জিয়ো বনাম এয়ারটেল' বাজারে বিরাজ করবে?

জানা গিয়েছে, ভোদাফোন-আইডিয়ার বকেয়ার পরিমাণ  ৫৩, ০৩৮ কোটি টাকা। অন্য়দিকে এয়ারটেলের বকেয়ার পরিমাণ ৩৫,৫৮৬ কোটি টাকা। এ-ও জানা গিয়েছে, এয়ারটেল তাদের বকেয়ার পরিমাণ আলাদা করে সরিয়ে রাখলেও  ভোদাফোন তা পারেনি। আদালতে এদিন ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে টেলিকম সংস্থাগুলি। সরকারের প্রাপ্য় বকেয়া জমার নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা নিয়ে রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়েছে। অথচ এখনও টাকা জমা দেয়নি কেউ। দেখে মনে হচ্ছে, আদালতের নির্দেশের প্রতি তাদের  একফোঁটাও শ্রদ্ধা নেই।

টেলিকম দফতরের এক অফিসারের ঔদ্ধত্য় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আদালত বলেছে, সেই অফিসারের ঔদ্ধত্য় এতই যে,  কোর্টের রায় সত্ত্বেও  তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, বকেয়া মেটাতে কোনও সংস্থাকে জোর না-করতে  এবং কেউ টাকা না-দিলে কোনও শাস্তিমূলক ব্য়বস্থা না-নিতে। এই অফিসারের বিরুদ্ধেই এবার আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আদালত। আদালত জানিয়েছে, সন্ধের মধ্য়ে  ওই নির্দেশ না-ফেরালে তাঁকে জেলে যাওয়ার জন্য় তৈরি থাকতে হবে। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য়,  একজন অফিসার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিচ্ছেন কীভাবে, তিনি কি সুপ্রিম কোর্টেরও উপরে!