বাংলাদেশে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। নরসিংদিতে মণি চক্রবর্তী নামে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে এবং যশোরে রানা প্রতাপকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
যশোরের ভরা বজারের মধ্যে গুলি করে খুনের ঘটনায় এখনও চাঞ্চল্য অব্যাহত। এরই মাঝে সোমবার রাতে নরসিংদি জেলায় এখ মুদি দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল অজ্ঞাপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম শরৎমণি চক্রবর্তী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
জানা গিয়েছে, চরসিন্ধুর বাজারে মুদির দোকান ছিল শরৎমণির। সোমবার দোকান বন্ধ করে সে বাড়ি যাচ্ছিল। তখন অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কয়েকজন দুষ্কৃতি। রক্তাক্ত অবস্থায় সে মাটিতে পড়ে যায়। তারপরই দুষ্কৃতিরা থামেনি। তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। তাঁর চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। তাঁরাই গুরুতর জখম অবস্থায় মণিতে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। জানা গিয়েছে, কারও সঙ্গে ঝামেলা ছিল না ছেলেটির। শান্ত স্বভাবের বলেই সে পরিচিত ছিল। প্রকাশ্যে বাজারে এই হত্যাকাণ্ডে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, রীতিমতো ভয়ে ভয়ে দিন কাটছে তাদের। দোষীদের গ্রেপ্তারির দাবি করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্থানীয়রা।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় আরও এক হিন্দুকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মৌলবাদী দুস্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের যশোর জেলায়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম রানা প্রতাপ। তার বয়স ৪৫ বছর। জানা গিয়েছে, ঘটনার সময়ে বাজারে গিয়েছিলেন প্রতাপ। সেই সময়ে তাকে লক্ষ্য করে দুস্কৃতীরা গুলি ছোঁড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বছর ৪৫-এর রানা।
বাংলাদেশে দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন। ভারতের উপকার ভুলে শত্রু পাকিস্তান এখন ঢাকার কাছের লোক। ফলে ক্রমশ পদ্মাপারে বাড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন। গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে এই নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। আর প্রত্যেকেই হিন্দু। নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে। যদিও ঘটনা প্রসঙ্গে নীরব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। তার সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


