লাদাখ সমস্যা শুরু হয়েছিল ঝাওএর হাত ধরে  ঝাওকে সরিয়ে দিলেন চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং তার পরিবর্তে দায়িত্বে জুডং জুডং ঝাও-এর মত ভারত বিদ্বেষী নয় 

চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং সরিয়ে দিল ওয়েস্টার্ন থিয়েটরের কমান্ডার জেনারেল ঝাও জংকিকে। জিনজিয়াং প্রদেশ থেকেই পরিচালিত হয় ওয়েস্টার্ন থিয়েটর। পিপিলস লিবারেশন আর্মির একটি শক্তিশালি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জিংজিয়াং এলাকা। সূত্রের খবর লাদাখ সীমান্তে অস্থিরতার জন্য দায়ি করা হয়েছে ঝাওকে। আর সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছুই জানায় চিন বেজিং। তবে ঝাওএর অপসারণ নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে ভারত। তেমনই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred


গত সাত মাস ধরে অস্থিরতা রয়েছে পূর্ব লাদাখ সেক্টরে। আর লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় অস্থিরতার জন্যই দায়ি করা হয়েছে কমান্ডার ঝাও জংকিকে। তার পরিবর্তে ওয়াস্টার্ন থিয়েটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঝাও জুডং-কে। ডোকলামে ভারত ও চিনের মধ্যে যখন অস্থিতরা তৈরি হয়েছিল তখনও সেখানের মোতায়েন ছিলেন ঝাও। কট্টর ভারত ও ভূটান বিদ্বেষী হিসেবেই সেনা মহলে তাঁর পরিচিতি। এই প্রথমবার ওয়েস্টার্ন কমান্ডারের সেনা দায়িত্ব পাচ্ছেন জুডং। জেনারেল ঝাওয়ের থেকে তিনি অনেকটাই কম বয়সী। ৫৮ বছরের জুডং এর আগে ভারতীয় সীমান্তের দায়িত্ব পাননি। সূত্রের খবর ঝাও-এর মত জুডং ততটা কট্টর ভারত বিরোধী নয়। 


নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক সেনা কর্তার কথায় আগামী সামরিক বৈঠকের সময় চিনার সেনার সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। কার ঝাও কোনও কথাই সোজাসুজি উত্তর দিতেন না। তুলনায় জুডং অনেকটা স্বচ্ছ বলে সূত্রের কবর। আর সেই কারণে সীমান্ত জট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে বলেও মনে করছেন তিনি। 

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন, মহামারির আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখে জরুরি বৈঠক ভারতে ...

কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়িয়ে ২৬তম দিন থেকে রিলে অনশনে কৃষকরা, আলোচনার প্রস্তাব কৃষি মন্ত্রকের ...

২০১৬ সালে ওয়েস্টার্ন কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ঝাও। চলতি বছর গ্রীষ্ণে ৬৫ বছরে পা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চিনা রাষ্ট্রপতি শি তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে না দিয়ে দায়িত্বে বহাল রেখেছিলেন। তিন্তু তার পরেও কেন তাঁকে আচমকা সরিয়ে দেওয়া হল তা স্পষ্ট করে কিছু জায়াননি প্রশাসন। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ঝাও। সূত্রের খবর সামরিক কমিশনের একটি পদের দিকে তাঁর নজর ছিল। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসও ছিল তাঁর। 

নয়া দিল্লি সূত্রে খবর ঝাও-এর নেতৃত্বেই পূর্ব লাদাখ সেক্টরে আগ্রাসন চালিয়েছিল চিনা সেনা। এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের গোড়ার দিকে প্যাগং ও গোররা পাস এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছিল লাল ফৌজ। জুনে রক্তাক্ত হয় গালওয়াল উপত্যকা। ২০ ভারতীয় জওয়ানের প্রাণ যায়। বেশ কয়েকজন চিনা সেনা নিহত হলেও তা প্রকাশ করেনি চিন। কিন্তু তারপর থেকে আগ্রাসন চালিয়ে গেলেও পাল্লা দিয়ে ভারত শক্তি বাড়িয়ে দেয় পূর্ব লাদাখ সেক্টরে। বর্তমান পরিস্থিতিত চিনা সেনার থেকে কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জওয়ানরা। বেশ কয়েকটি এলাকায় সুবেধেজনক অবস্থায় রয়েছে ভারত। অধিকাংশ উচ্চতর এলাকাগুলি দখল করছে রেখে ভারতীয় সেনা। কৌশলগত দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে চিন। এই অবস্থায় চিনা সেনা কর্তার অপসারণে আশার আলো দেখছে ভারত।