মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ববর্তী সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত সাহাবুদ্দিনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরেও সাংবিধানিক পদে বহাল রয়েছেন।

রাজনৈতিক সূত্র ও বৃহস্পতিবারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ববর্তী সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত সাহাবুদ্দিনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরেও সাংবিধানিক পদে বহাল রয়েছেন। গত দুই দিন ধরে এ সংক্রান্ত খবর জোরাল হয়েছে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবামাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং তখন থেকেই সেখানে রয়েছেন।

হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা?

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সিনিয়র নেতা বিস্তারিত কিছু না জানিয়েই পিটিআই-কে বলেছেন, "খুব সম্ভবত তিনি (সাহাবুদ্দিন) শীঘ্রই পদত্যাগ করবেন।" দৈনিক প্রথম আলো সরকারের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি হাসিনার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন—এমন খবরে সরকার অসন্তুষ্ট। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা 'দ্য ডেইলি স্টার'-কে আরও বলেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ও হাসিনার মধ্যে সম্প্রতি টেলিফোনে কথোপকথনের খবরটিই তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। বিষয়টি আরও জটিল, কারণ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এই বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা করার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে স্বাগত

বাংলাদেশ সরকার হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে জোর দিয়ে বলেছে য তাঁকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আন্দোলন—যা এখন 'জুলাই অভ্যুত্থান' হিসেবে অভিহিত হচ্ছে—দমন করার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচার চলে ও রায় দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রবীণ যোদ্ধা এবং নিম্ন আদালতের প্রাক্তন বিচারক সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাঁচ বছরের মেয়াদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের বিচারের লক্ষ্যে ২০১০ সালে হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকারই মূলত এই ট্রাইব্যুনালটি গঠন করেছিল। হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামি লিগ সরকারের নেতা ও কর্তাদের বিচার করার সুযোগ তৈরি হয়।

সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে, তখন তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই একটি অংশে পরিণত হয়েছে।