সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি একটি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি চুক্তিটি ভঙ্গ করা হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আরও প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি একটি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি চুক্তিটি ভঙ্গ করা হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আরও প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, মূল চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ এবং অস্ত্রশস্ত্র ইরানের চারপাশে মোতায়েন থাকবে।

বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে, মূল চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ এবং অস্ত্রশস্ত্র ইরানের চারপাশে মোতায়েন থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, যদি চুক্তিটি ভঙ্গ করা হয়, তবে ইরানকে আগের চেয়েও বৃহত্তর ও আরও জোরাল পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর ভাষণে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কোনও মূল্যেই ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি করতে দেবেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রহণযোগ্য

হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত নিজেদের কৌশলও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি যে কোনও মূল্যে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে। তেলের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো সেখানে উপস্থিত থাকবে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে এই পথের উপর ইরানের যে কোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ সহ্য করা হবে না।

পরিশেষে তিনি দাবি করেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ও সজাগ রয়েছে। তারা কেবল অগ্রসর হওয়ার আদেশের অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প ইরানকে পরামর্শ দেন যেন তারা এই কূটনৈতিক সুযোগটি কাজে লাগায়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এই বার্তাটিকে ইরানের প্রতি একটি 'চূড়ান্ত সতর্কবার্তা' হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে মতপার্থক্য

ট্রাম্পের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছিল। তবে, যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা না হয়, তবে তাদের উপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই বিবৃতিকে ইরানের উপর চাপ বৃদ্ধির কৌশলেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কখনই ইরানকে পরমাণু সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মুহূর্ত কয়েক পরেই, তেল আবিব লেবাননে হিজবুল্লা সদস্যদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, হিজবুল্লা এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।