একটানা লকডাউন, বিক্রি না হওয়ায় ফসল পোড়াচ্ছেন কৃষকরা, চিনে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

| Nov 28 2022, 03:50 PM IST

China

সংক্ষিপ্ত

চিনের একটি বিশাল জনসংখ্যা লকডাউনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ঘাটতি এবং সরবরাহ বাধার সম্মুখীন হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে বেইজিং এবং সাংহাই সহ বেশ কয়েকটি শহরে COVID-19 বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।

চিনে কঠোর কোভিড নিয়ন্ত্রণ আইনে জেরবার সাধারণ মানুষ। একটানা লকডাউন চলায় কৃষকদের কাছে ফসল ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। কারণ বাজার বন্ধ হওয়ায় কোনও ফসলই বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, খাদ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। অনলাইনে প্রচারিত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে কৃষকরা ফসল ফেলে দিচ্ছেন। তাদের ফসল বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় এবং জাতীয় মিডিয়া আরও জানিয়েছে যে শানডং এবং হেনান প্রদেশের মতো প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে সবজির স্টোরেজগুলি পরবর্তী ফসল বোনার জন্য জায়গা তৈরি করতে ধ্বংস করা হচ্ছে। চিনে তাজা খাবারের এই ক্ষতি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন চিনের একটি বিশাল জনসংখ্যা লকডাউনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ঘাটতি এবং সরবরাহ বাধার সম্মুখীন হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষে বেইজিং এবং সাংহাই সহ বেশ কয়েকটি শহরে COVID-19 বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে।

Subscribe to get breaking news alerts

সাধারণ মানুষ লকডাউনের বিরোধিতা করার কারণে কোভিডের সময়ও চিনে অস্থিরতার পরিবেশ রয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে জারি করা লকডাউনের বিরোধিতা করা হচ্ছে বেইজিং এবং সাংহাই সহ চিনের অনেক শহরে। সাংহাইয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে এলে পুলিস তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এখানে পুলিসের গাড়িতে অনেককে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেইজিং এবং নানজিং সহ অন্যান্য জায়গায়, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে ভ্যাকসিনের পরেও বিবিধ কড়াকড়ি এখনও বজায় রেখেছে চিন দেশের প্রশাসন। সেই পরিস্থিতির অন্যথা হলে চলছে ব্যাপক ধরপাকড় এবং গ্রেফতারি। কিন্তু, এর মুখে পড়েও দেশের নাগরিকদের প্রতিবাদ থামছে না। শাসক মুখ চেপে ধরলেও নাগরিকদের প্রতিবাদের অস্ত্র হয়ে উঠছে সাদা কাগজ।

নানজিং, বেজিংয়ের মতো জায়গায় চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। গোটা বিশ্বজুড়ে কোভিড নিয়ে যখন কড়াকড়ি একদমই হালকা করে দেওয়া হয়েছে, তখনও চিন দেশে শাসকের বেড়ি অব্য়াহত। দেশের নাগরিকদের মধ্যে ক্রমশই ক্ষোভ ছড়াচ্ছে বলে খবর। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে বহু স্লোগান ইতিমধ্যেই ‘নিষিদ্ধ’ বলে ঘোষণা করে দিয়েছে সরকার, টাই কোনওরকম স্লোগান এড়াতে শাসকের বিরুদ্ধে সাদা কাগজ তুলে ধরছেন নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদীরা। এভাবেই তাঁরা দেশে আটক হওয়া আইনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের নীরবে সমর্থন জানিয়ে চলেছেন।