পাকিস্তানে ফের অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে খুন হল এক জঙ্গি। এবার খোদ ইসলামাবাদে হিজবুল কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদকে গুলি করে মারা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে জইশ ও লস্করের একাধিক জঙ্গি নিকেশ হওয়ায় পাকিস্তানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পাকিস্তানে আবারও রহস্যজনকভাবে জঙ্গিদের খুনের ঘটনা শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই এমন ঘটনা সামনে আসছে, যেখানে ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অজ্ঞাত আততায়ীরা নিশানা করছে। সাম্প্রতিকতম ঘটনাটি হল হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদের হত্যা। তাকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গুলি করে মারা হয়েছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইসলামাবাদে খুন
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার অজ্ঞাত আততায়ীরা হিজবুল কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদকে গুলি করে। তার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় সাজ্জাদ
তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ আহমেদ ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানে অবস্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের সংস্পর্শে আসে। এরপর সে জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে কাজ শুরু করে এবং ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল।
লাগাতার নিশানায় জঙ্গি সংগঠনগুলি
সাজ্জাদের হত্যা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।
সালমান আজহারেরও মৃত্যু হয়েছিল
দু'দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।
লস্কর কমান্ডারেরও হত্যা
এর আগে, লস্কর-ই-তৈবার সিনিয়র কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় অজ্ঞাত বন্দুকবাজরা গুলি করে হত্যা করে। মার্চ মাসে মাসুদ আজহারের ভাই তাহির আজহারেরও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। তাহিরকে সংগঠনের পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ বলে মনে করা হত।
২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয়
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


