সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চরমে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। জলকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইসলামাবাদ/নয়া দিল্লি: পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কটা বরাবরই উত্তপ্ত। এবার সেই উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢালল জল-বিবাদ। সীমান্ত বা সন্ত্রাসবাদ নয়, এবার বিতর্কের কেন্দ্রে দুই দেশের লাইফলাইন সিন্ধু নদের জল। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ রবিবার ভারতকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত যদি সিন্ধু নদের জল আটকানো বা তার গতিপথ বদলানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইসলামাবাদ যুদ্ধ করতেও পিছপা হবে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

"ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব..." প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য

পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেল ARY নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জল-সুরক্ষাকে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। তিনি ক্যামেরার সামনে কড়া ভাষায় বলেন: “যে মুহূর্তে আমাদের মনে হবে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিপদে পড়েছে—আর জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ—আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এটা নিশ্চিত।” আসিফ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জলের অভাবে ভুগতে থাকা পাকিস্তান চুপ করে বসে থাকবে না যদি ভারত চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া জলের স্বাভাবিক প্রবাহ আটকানোর চেষ্টা করে।

জুন ২০২৮-এর সেই ‘ডেডলাইন’ ভিডিও, যা দেখে ঘুম উড়েছে ইসলামাবাদের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কড়া বয়ান হঠাৎ করে আসেনি। এর পিছনে রয়েছে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি ভিডিও ক্লিপ, যা পাকিস্তানি শাসকদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ওই ভিডিওতে নাকি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, জুন ২০২৮-এর মধ্যে পাকিস্তানে যাওয়া সিন্ধু নদের জল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এই ভিডিও সামনে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়, কারণ পাকিস্তানের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি এই নদীর জলের উপরেই নির্ভরশীল।

পহেলগাম হামলা এবং ১৯৬০-এর ঐতিহাসিক চুক্তিতে ভারতের ‘বড় আঘাত’

দুই দেশের মধ্যে জল নিয়ে এই সংঘাত শুরু হয় এপ্রিল ২০২৫-এ জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর। ওই আত্মঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। নয়াদিল্লি এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করে। এরপরই ভারত ১৯৬০ সাল থেকে চলে আসা ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ (Indus Waters Treaty) সাসপেন্ড করার মতো কড়া সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ইসলামাবাদ যতদিন না সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য এবং স্থায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততদিন বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু নদের প্রায় ৮০ শতাংশ জল পাকিস্তান পেয়ে থাকে।

চেনাব নদীর জল ঘোরানোর অভিযোগ, রাষ্ট্রসংঘে দরবার পাকিস্তানের

জলের জন্য মরিয়া পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছে। গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। শুধু তাই নয়, এই মাসের শুরুতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনে। তাদের দাবি, নয়াদিল্লি নাকি ‘চেনাব নদী’-র জল অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য একটি গোপন নদী-সংযোগ প্রকল্পে কাজ করছে। পাকিস্তান এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও দাবি করেছে। সব মিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কমতে থাকা জলস্তরের মধ্যে সিন্ধু নদের জল নিয়ে এই নতুন বিবাদ দুই পরমাণু শক্তিধর দেশকে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে।