- Home
- World News
- International News
- Oil Prices: হরমুজে হুলুস্থুল! ইরানের এক হুমকিও বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়লো তেলের দাম
Oil Prices: হরমুজে হুলুস্থুল! ইরানের এক হুমকিও বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়লো তেলের দাম
Oil Prices: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত না মানার অভিযোগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এই ঘোষণার পরেই সোমবার বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়।

হরমুজ অবরোধের হুমকি
আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। আর তার জেরেই সোমবার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামে আগুন লেগেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৭২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪.৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ৫.৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৪৭ ডলার হয়েছে।
আমেরিকার শেয়ার বাজারে প্রভাব
এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে আমেরিকার শেয়ার বাজারেও। দিনের শুরুতে ডাও জোনস ফিউচারস ৩৬৭.৪৪ পয়েন্ট বা ০.৭৪ শতাংশ পড়ে যায়। তবে সোনার দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, প্রতি আউন্সের দাম ছিল ৪,৮০৭.৯৩ ডলার।
এশিয়ার শেয়ার বাজার
এশিয়ার বাজারগুলিতে অবশ্য অন্য ছবি দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৬১৪.১০ পয়েন্ট (১.০৫ শতাংশ) বেড়ে ৫৯,০৯০.০০-তে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ১.৩২ শতাংশ বেড়ে ৬,২৭৩.৯২ হয়েছে এবং তাইওয়ান ওয়েটেড সূচক ৪১৩.৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ৩৭,২১৮.১৯-এ দাঁড়িয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.৬১ শতাংশ বেড়ে ২৬,৩২১.০০ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট ০.৫২ শতাংশ বেড়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সূচক সামান্য কমেছে (০.০৬ শতাংশ)।
হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারি
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড জানায় যে সেদিন সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে IRGC বলেছে, শুক্রবার কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হলেও, "যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে আমেরিকান শত্রুরা ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তোলেনি"।
IRGCর বিবৃতি
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "তাই, এই অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত আজ সন্ধ্যা থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।"
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিবৃতিতে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, "আমরা সতর্ক করছি যে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে কোনো জাহাজ যেন নিজের জায়গা থেকে না নড়ে। হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোলে তাকে শত্রুপক্ষের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই জাহাজকে নিশানা করা হবে।"
জাহাজ মালিকদের কাছে আবেদন
বিবৃতির শেষে বলা হয়, "সমস্ত জাহাজ এবং তাদের মালিকদের জানানো হচ্ছে যে তারা যেন শুধুমাত্র IRGC নৌবাহিনীর সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং চ্যানেল ১৬ থেকে খবর নেয়। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী প্রেসিডেন্টের বিবৃতির কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।"
আবারও তোলাবাজি শুরু!
এর আগে শনিবার ইরানের এক শীর্ষ কর্তা সিএনএন-কে জানান, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য যে সব জাহাজ ফি দিতে রাজি হবে, তাদের আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ওই কর্তা বলেন, "যেহেতু সীমিত সংখ্যক জাহাজকেই পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তাই ইরান সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারা হরমুজ প্রণালীর নতুন নিয়ম মেনে দ্রুত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পরিষেবার খরচ মেটাবে, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "যেসব জাহাজ ফি দেবে না, তাদের যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া হবে।"
ইরানের অভিযোগ
যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমেরিকার বিরুদ্ধে "বারবার বিশ্বাসভঙ্গের" অভিযোগ তুলে ইরান এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এর আগে, এই উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান আর আমেরিকাকে "ব্ল্যাকমেল" করার জায়গায় নেই। তিনি বলেন, "তাদের (ইরানের) কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই। তাদের কোনো নেতা নেই; তাদের কিছুই নেই... তারা আমাদের ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না।"
ইরানের অবস্থান
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম IRIB জানিয়েছে, আমেরিকার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ এবং ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালীর ওপর "কড়া নিয়ন্ত্রণ" ফিরিয়ে এনেছে।

