Ali Larijani: মঙ্গলবার ইজরায়েলি মিডিয়ার রিপোর্টে তোলপাড়। গভীর রাতে ইরানে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। তাদের নিশানায় ছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি। তবে তিনি হতাহত হয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

মঙ্গলবার ইজরায়েলি মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, গভীর রাতে ইরানে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে তাদের সেনা। সূত্রের খবর, এই হানার মূল নিশানা ছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আলি লারিজানি নিহত?

দ্য টাইমস অফ ইজরায়েলের রিপোর্ট অনুযায়ী, লারিজানি এই হামলায় নিহত বা আহত হয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, সম্প্রতি ইজরায়েলের আরও একটি হানায় প্যালেস্তিনীয় ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর নেতা আক্রাম আল-আজুরি এবং অন্য শীর্ষকর্তাদের নিশানা করা হয়েছিল।

ইজরায়েলের দাবি

দ্য টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুসারে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)-এর চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার সকালে একটি বৈঠকের পর তিনি বলেন, "গত রাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে, যা এই অভিযানের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে"। মনে করা হচ্ছে, লারিজানিকে নিশানা করার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

জামির আরও বলেন, "এর পাশাপাশি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ইরানের মাটিতে বাইরের শক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে প্যালেস্তাইনের যোগ রয়েছে।" এখানে তিনি ইসলামিক জিহাদের কর্তাদের কথা বলছিলেন। তাঁর কথায়, "গাজা এবং জুডিয়া ও সামারিয়া (ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক) থেকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো এই সিনিয়র অপারেটিভরা তেহরানের একটি সেফ হাউসে লুকিয়ে ছিল, সেখানেই তাদের ওপর হামলা হয়।" এই আবহে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস ইরানের বিভিন্ন জায়গায় "ইরানি নিরাপত্তা পরিকাঠামোর" ওপর একাধিক হামলার কথা ঘোষণা করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে IDF জানিয়েছে, "তেহরানে কমান্ড সেন্টার, ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং এয়ার ডিফেন্স স্টোরেজ সাইটগুলিতে কয়েক ডজন গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।" পোস্টের সঙ্গে একটি ম্যাপও দেওয়া হয়েছে, যেখানে তেহরান, শিরাজ এবং তাবরিজে হামলার জায়গাগুলি স্যাটেলাইট ভিউতে পিন দিয়ে চিহ্নিত করা আছে।

IDF আরও জানিয়েছে, "শিরাজে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটে হামলা চালানো হয়েছে।" উত্তর-পশ্চিমেও ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে ইজরায়েলের আকাশপথে নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে এবং ইজরায়েল সুরক্ষিত থাকবে।

আলি লারিজানির শেষ বার্তা!

প্রসঙ্গত, সোমবারই আলি লারিজানি মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান "অবিচল" থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিতে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকবে, আর ইরান "হাত গুটিয়ে বসে থাকবে", এমনটা আশা করা যায় না। লারিজানি প্রশ্ন তোলেন, "আজকের লড়াইটা আসলে একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল এবং অন্যদিকে মুসলিম ইরান ও প্রতিরোধকারী শক্তির মধ্যে। তাহলে আপনারা কোন দিকে আছেন?" তিনি মুসলিম ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ইরান এই অঞ্চলে "কর্তৃত্ব" কায়েম করতে চায় না।