২০২৬ সালের এপ্রিলে সূর্যের খুব কাছে চলে গিয়েছিল C/2026 A1 (MAPS) নামের একটি 'সানগ্রেজার' ধূমকেতু। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপ আর টানের চোটে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নাসার SOHO এবং STEREO মহাকাশযান এই গোটা ঘটনাটা রেকর্ড করেছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে সূর্যের একেবারে কাছে পৌঁছে যাওয়া একটা বিরল ধূমকেতু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। C/2026 A1 (MAPS) নামের এই 'সানগ্রেজার' ধূমকেতুকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নাসার পর্যবেক্ষণ বলছে, সূর্যের প্রচণ্ড তাপ আর টানের জোর সহ্য করতে না পেরেই ধূমকেতুটি শেষ হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো, ক্র্যুটজ (Kreutz) সানগ্রেজার পরিবারের এই ধূমকেতুটিকে প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন কয়েকজন শখের জ্যোতির্বিজ্ঞানী।

SOHO আর STEREO-র চোখে ধূমকেতুর শেষ যাত্রা

সূর্যের সবচেয়ে কাছের বিন্দু, অর্থাৎ পেরিহিলিয়নে পৌঁছনোর আগেই নাসার একাধিক মহাকাশযান দ্রুত গতিতে ছুটে চলা এই MAPS ধূমকেতুটির ওপর নজর রাখছিল। SOHO মহাকাশযানের LASCO করোনাগ্রাফ যন্ত্রটি ধূমকেতুটিকে সূর্যের কাছে যাওয়ার আগে একেবারে অক্ষত অবস্থায় দেখেছিল। কিন্তু তার পরেই ছবিটি বদলে যায়। LASCO-র ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ধূমকেতুটি স্রেফ একটা ধুলোর মেঘে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, STEREO মহাকাশযানটি আবার অন্য একটি কোণ থেকে গোটা ঘটনাটা দেখছিল। তার রেকর্ডে দেখা যায়, ধূমকেতুটি সূর্যকে চক্কর দেওয়ার পরেই পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে।

নাসার নতুন PUNCH মিশনও ১ এপ্রিলের আগেই MAPS-এর ছবি তুলেছিল। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশনের তথ্য ভবিষ্যতে সৌরঝড়ের প্রভাবে ধূমকেতুর লেজের কী পরিবর্তন হয়, তা বুঝতে সাহায্য করবে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে পার্কার সোলার প্রোব-এর WISPR যন্ত্র সূর্যের আলোয় আরেকটি সানগ্রেজার ধূমকেতুর ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছিল।

কীভাবে ধ্বংস হয় ধূমকেতু?

আসলে ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি এলে এর ভেতরের বরফ প্রচণ্ড তাপে গলে গ্যাস হয়ে যায়। এর ফলে ধূমকেতুর ভেতরে চাপ তৈরি হয় এবং এর কেন্দ্রভাগটা ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় সূর্যের শক্তিশালী টাইডাল ফোর্স বা মহাকর্ষীয় টান। আর ঘণ্টায় প্রায় ১৬ লক্ষ কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলার কারণে এই ভাঙনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। শেষ পর্যন্ত ধূমকেতুটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়ে শুধু গ্যাস আর ধুলো পড়ে থাকে।

বিজ্ঞানীদের কাছে এই ধরনের ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের সৌরজগতের একেবারে শুরুর দিকের অনেক অজানা রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হতে পারে। সোজা কথায়, ধূমকেতু কীভাবে তৈরি হয় আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে বদলায়, তা বুঝতে এই পর্যবেক্ষণগুলো দারুণ কাজে দেয়।