নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২-এ পৌঁছেছে এবং ১৪৬৮ জন এখনও নিখোঁজ। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে ৫০ জন বিদেশি।

ক্রমে বাড়ছে মৃতের সংংখ্যা। বর্তমানে নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ এখনই ১৪৬৮। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাস্তা। সেতু ভেঙে গিয়েছে। সব জায়গায় কাদা। সে কারণে উদ্ধার কারজ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ এবং পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসে। এরপরই ভয়ঙ্কর হড়পা বান দেখা যায়। তাতে জল, কাদা, ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তছনছ হতে থাকে গ্রাম। ভেঙে যায় রাস্তা, সেতু। সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় এই হড়পা বান। বলি হতে থাকে একের পর এক প্রাণ।

উদ্ধার কাজ যত এগিয়ে যাচ্ছে, তত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বর্তমানে হড়পা বানে মৃত বেড়ে ৩৯২। তাদের মধ্যে ৩৮৯ জন নেপালের বাসিন্দা। ৩ জন তিব্বতের। তেমনই নেপাল পুলিশ উদ্ধার করেছে ৭৯৬ জনকে। তাদের নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয়েছে। এই ৭৯৬ জনের মধ্যে ৫০ জন বিদেশি। নেপাল কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুসার, এখনও ৯১০ জন নিখোঁজ। তিব্বতের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ৫৫৮ জন নিখোঁজ। সব মিলিয়ে নিখোঁজ প্রায় ১৪৬৮ জন।

প্রসঙ্গত, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গিয়েছে। সেই বানে নিহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। অন্তত ১৪৬৮ জনের খোঁজ নেই। তাদের মধ্যে আছেন ভারতীয়, আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, আমারেকির নাগরিকও। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটিজ-র নেপাল শাখার প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, অনেক গ্রাম এবং বাজার এলাকা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী।