বন্যার পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলেও ভারত, চিন এবং আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি নেপাল সরকার। কাঠমান্ডুর দাবি, দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর দেশজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চলছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে পরপর দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এখনও পর্যন্ত ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,০০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বন্যার পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলেও ভারত, চিন এবং আমেরিকা-সহ একাধিক দেশ হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি নেপাল সরকার। কাঠমান্ডুর দাবি, দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
২০১৫ সালের ভূমিকম্পের তিক্ত অভিজ্ঞতা
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার মতে, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল, সামরিক বিমান এবং ত্রাণ সংস্থার বিপুল উপস্থিতিতে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছিল।
বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পারস্পরিক প্রতিযোগিতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল করে তুলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার একাধিক স্বাধীন বিদেশি দলকে মাঠে নামানোর পরিবর্তে দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল।
বস্তুগত ও আর্থিক সহায়তা নিচ্ছে নেপাল
তবে বিদেশি সাহায্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি নেপাল। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ত্রাণসামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আর্থিক অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে।
‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনার C-130J এবং C-17 গ্লোবমাস্টার বিমানে করে ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী তাঁবু, কম্বল, ওষুধ, সৌর বাতি এবং খাবারের প্যাকেট।
এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পরিবর্তে উপত্যকা পারাপারের জন্য প্রিফ্যাব্রিকেটেড সেতু সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, “নেপাল যে কোনও সহায়তার অনুরোধ করলে ভারত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
ত্রাণ সহায়তায় ‘এক-দরজা ব্যবস্থা’
বিদেশি সহায়তা যাতে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা যায়, তার জন্য ‘এক-দরজা ব্যবস্থা’ চালু করেছে নেপাল সরকার। এর আওতায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
নেপাল সরকারের লক্ষ্য, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ও সম্পদের ন্যায্য এবং সমতাপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করা।
নিখোঁজ প্রায় ৭০০ বিদেশি পর্যটক
বন্যার পর নেপালে ৩৪টি দেশের প্রায় ৭০০ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন বিভাগ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক। এঁদের অনেকেই কৈলাস মানস সরোবর ও গোসাইকুণ্ডে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। বিদেশি নাগরিকদের খোঁজ এবং তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিশেষ জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করেছে।রাসুয়া জেলার তিমুরে উপ-সচিব পর্যায়ের এক আধিকারিককে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে সরাসরি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির রিপোর্ট সংগ্রহ করে তা কাঠমান্ডুর প্রধান সমন্বয় কেন্দ্রে পাঠাচ্ছেন। ফলে, বিদেশি উদ্ধারকারী দল সরাসরি না এলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রীকে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে নেপাল সরকার।
