পিটিআই-এর প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক আগেই ইমরান খানের আত্মীয়দের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুললেন তাঁর ছেলে কাসিম খান। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানান, তাঁর পিসি এবং দাদাদের কোনও কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআই-এর (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) প্রতিবাদ মিছিল। আর তার ঠিক আগেই ইমরান খানের বেশ কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন তাঁর ছেলে কাসিম খান। কাসিমের দাবি, তাঁর পিসি এবং দাদাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা কোথায় আছেন, সেই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

প্রতিবাদে সরব ইমরান খানের ছেলে

এক্স (X) হ্যান্ডেলে পরপর বেশ কয়েকটি পোস্টে কাসিম লেখেন, তাঁর পিসি ডক্টর উজমা ও নোরিন এবং দাদা শেরশাহ ও শাহরেজকে পুলিশ আটক করেছে। বাড়িতে ঢুকে জোর করে তাঁদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

কাসিম লেখেন, "এটা চরম লজ্জার। আমার পিসি ডক্টর উজমা ও নোরিনের পাশাপাশি দাদা শেরশাহ এবং শাহরেজকেও অপহরণ করা হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "ওরা আমার পিসি আর দাদাদের বাড়িতে জোর করে ঢুকে কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের গাড়িতে তোলে। গ্রেফতারের কোনও কারণও দেখানো হয়নি। তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই খবরটুকুও আমাদের কাছে নেই।" এই গ্রেফতারিকে 'অপরাধমূলক আচরণ' বলে তোপ দেগেছেন কাসিম। গোটা বিশ্বের নজর এই পরিস্থিতির দিকে টানারও চেষ্টা করেছেন তিনি।

অন্য একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, শাহরেজের চার ও ছয় বছরের দুই সন্তানকেও প্রথমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অবশ্য তিনি জানান যে বাচ্চারা নিরাপদে আছে। তবে তাঁর আরও দুই আত্মীয় আজিম এবং সাকিনাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কাসিম লেখেন, "দাদার বাচ্চারা নিরাপদে আছে শুনে স্বস্তি পেলাম। কিন্তু এর মধ্যেই আমার আরও দুই আত্মীয় আজিম আর সাকিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও কারণ বা জায়গার কথা জানানো হয়নি।"

২৭ সেপ্টেম্বরের পিটিআই মিছিলের আগে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকেও লাহোরে আটক করা হয়েছে। মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (MPO) আইনে তাঁকে আটক করা হয়। ১৯৬০ সালের পঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ আলি ইজাজ তাঁকে ৩০ দিনের জন্য আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইমরানের বোন জেলে!

পাক সংবাদমাধ্যম ডন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে আলিমা খানকে কোট লাখপত জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে নির্দেশে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ এবং পিটিআই কর্মীদের জড়ো করার ক্ষেত্রে তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। আলিমা খানকে আটকে রাখার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলি খান। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে আসন্ন প্রতিবাদের আগে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। আলিমার ছেলে শাহরেজ খান এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, বাড়ি থেকে বেরোনোর পরেই তাঁর মাকে "অপহরণ" করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই এবং তিনি কোথায় আছেন, সেটাও কেউ জানে না।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদ মিছিল

একাধিক আইনি মামলায় এই মুহূর্তে জেলে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর মুক্তির দাবিতেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই পিটিআই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে, পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জেলে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তাঁর একটি মেডিক্যাল চেক-আপ করানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। আলিমা খানকে আটকে রাখার পিছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, পিটিআই এবং ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করেছেন। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁরা কোথায় আছেন, সেই তথ্য অবিলম্বে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।