China Flood: ৬১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি! মুহূর্তে ভাসল চিনের একাধিক শহর, গাড়ি স্রোতে উধাও

মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক ঘণ্টায় ৬১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি! হাইনানের ইতিহাসে রেকর্ড বৃষ্টিতে চিনে ভয়াবহ বন্যা। চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি! রাস্তায় স্রোতের মতো ছুটছে জল!

Share this Video

মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক ঘণ্টায় ৬১৬ মিলিমিটার বৃষ্টি! হাইনানের ইতিহাসে রেকর্ড বৃষ্টিতে চিনে ভয়াবহ বন্যা। চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি! রাস্তায় স্রোতের মতো ছুটছে জল! কোথাও এক মিটারেরও বেশি জল, আবার কোথাও ডুবে গিয়েছে গোটা রাস্তা। প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার ছবি সামনে এসেছে চিনের হাইনান প্রদেশ থেকে। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ চিনের হাইনান প্রদেশের উঝিশান শহরে আছড়ে পড়ে প্রবল বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টিতেই তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।

গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে বৃষ্টি হয়েছে ৬১৬.২ মিলিমিটার! ১৯৫৮ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে উঝিশানে একদিনে এত বেশি বৃষ্টি আগে কখনও হয়নি।তীব্র এই বৃষ্টির পিছনে রয়েছে একটি ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন এবং ঠান্ডা বাতাসের প্রভাব। একটানা বৃষ্টিতে দ্রুত ফুলে ওঠে এলাকার নদীগুলি। তারপর নদীর জল উপচে ঢুকে পড়ে শহরের রাস্তায়। কোথাও গাড়ি পার্ক করে রাখার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা চলে যায় জলের তলায়। আবার কোথাও প্রবল স্রোত একাধিক গাড়িকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

শুধু রাস্তা নয়, বেশ কিছু জায়গায় ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটেও ঢুকে পড়ে বন্যার জল। শহরের একাধিক এলাকা কার্যত জলের তলায় চলে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কোথাও কোথাও রাস্তায় জমা জলের গভীরতা এক মিটারেরও বেশি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এমন ভয়াবহ বন্যা তাঁরা আগে দেখেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিনা প্রশাসন সর্বোচ্চ বন্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল, অফিস, ব্যবসা, উৎপাদন, পরিবহণ এবং পর্যটনকেন্দ্র। অর্থাৎ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবনের একটা বড় অংশ। হাইনানের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ৩১ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে দমকল এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল। বন্যার জলে আটকে পড়া অন্তত ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিপদ এখনও কাটেনি। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটি জলসিক্ত হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় বেড়েছে ধসের আশঙ্কা। কোথাও বিদ্যুৎ, কোথাও আবার পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি এবং ভূতাত্ত্বিক বিপদের জন্য লাল ও হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে নিচু এলাকা এবং নদীর ধার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত নজরে রাখতে বলা হয়েছে। কারণ, কয়েকদিন ধরেই হাইনানের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি চলছিল। সোমবার তার তীব্রতা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছে যায়।

৬১৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি—একদিনে রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি। তার সঙ্গে নদীর জল, ভয়াবহ স্রোত আর একের পর এক প্লাবিত রাস্তা। এই মুহূর্তে হাইনানে উদ্ধার এবং ত্রাণকাজ চলছে। জলস্তর এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। প্রকৃতির এই ভয়াবহ রূপ আরও একবার দেখিয়ে দিল, চরম আবহাওয়ার সামনে কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে একটি গোটা শহর।

Related Video