- Home
- World News
- International News
- এই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান, অঙ্কটা জানলে মাথা ঘুরে যাবে
এই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান, অঙ্কটা জানলে মাথা ঘুরে যাবে
সিঙ্গাপুর সরকার রাজনৈতিক নেতাদের বেতন বাড়াতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। এর ফলে তাঁর নিজের বার্ষিক বেতন ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ২৭ কোটি টাকা) হবে।
সিঙ্গাপুর সরকার রাজনৈতিক নেতাদের বেতন বাড়াতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। এর ফলে তাঁর নিজের বার্ষিক বেতন ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ২৭ কোটি টাকা) হবে। এই বেতন বৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে সরকারের যুক্তি হল সরকারি পদে যোগ্য ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করতে এবং সুশাসন বজায় রাখার জন্য উচ্চ বেতন প্রয়োজন।

ওং-এর বেতনের ভিত্তিমান ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (১৬.৫ কোটি টাকা) থেকে বৃদ্ধি পাবে। উপ-প্রধানমন্ত্রীর বেতনের ভিত্তিমান ১৮ লাখ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (১৪.০২ কোটি টাকা) থেকে বেড়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (২২.৯৪ কোটি টাকা) হবে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা তাঁদের সিনিয়রিটি এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে ১৮ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (১৩.৫ কোটি টাকা) থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (২১.৫৯ কোটি টাকা)-এর মধ্যে বেতন পাবেন।
তবে এই নতুন অঙ্কগুলো হল বেতনের ভিত্তিমান। এর অর্থ এই নয় যে মন্ত্রীরা অবিলম্বে পুরো অর্থ পাবেন। বর্তমান রাজনৈতিক পদধারীরা ১৫ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন সুবিধা পাবেন এবং ভবিষ্যতে বেতনের পরিবর্তনগুলো ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের উপর নির্ভর করবে। ওং জানিয়েছেন যে, তাঁর নিজের বেতন যেটুকু বাড়বে, সেই পুরো অর্থ তিনি তাঁর মেয়াদকালে উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।
ওং বলেন, "রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি জটিল ও আবেগপূর্ণ বিষয়। এই বেতনের পরিমাণ অধিকাংশ সিঙ্গাপুরবাসীর আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। মূল বিতর্কটি হল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সিঙ্গাপুর কি ভবিষ্যতেও আকৃষ্ট করতে পারবে কি না। আমাদের শুরুর কথাটি হল ভালো সরকার ব্যবস্থা নির্ভর করে ভালো নেতৃত্বের উপর।"
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, মন্ত্রীদের বেতন গ্রেডের সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করা হবে এবং প্রতিটি গ্রেডের বেতনসীমা আরও বিস্তৃত করা হবে। ওয়াং বলেন, এর ফলে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হাতে আরও ক্ষমতা থাকবে। সর্বনিম্ন গ্রেডের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন মানদণ্ডটি ১১ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ১৮ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে উন্নীত হবে। তবে ওং জানিয়েছেন যে, ওই পদমর্যাদায় থাকা অধিকাংশ মন্ত্রীই তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার নাগাদ প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার আয় করতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ১.৮ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এমন কোনও লক্ষ্যমাত্রা নয় যা প্রত্যেক মন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত অর্জন করতেই হবে। সাংসদরা বর্ধিত ভাতা পাবেন। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তাঁদের মাসিক ভাতা ১৩,৭৫০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ১৮,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরে রাজনীতিবিদদের বেতন বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। সরকার এই ব্যবস্থাকে মেধাবী ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার এবং দুর্নীতির ঝুঁকি কমানোর একটি উপায় হিসেবে যৌক্তিক বলে দাবি করে আসছে। বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় এই রাষ্ট্রটি নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থানে থাকে।