'শান্তি আলোচনা' ভেস্তে যাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এখন, ট্রাম্প সরাসরি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর অর্থ হল ওয়াশিংটন, যারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তারাই এখন সেটা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান 'শান্তি আলোচনা' ভেস্তে যাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এখন, ট্রাম্প সরাসরি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর অর্থ হল ওয়াশিংটন, যারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, তারাই এখন সেটা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। হরমুজ প্রণালী তেহরানের জন্য একটি জীবনরেখা, যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে দেশটির বেশিরভাগ তেল পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তা ইরানের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল শিল্প আশঙ্কা করছে যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে তেলের দাম আরও বাড়বে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সেই সমস্ত ইরানি জাহাজ আটকে দিতে শুরু করবে যেগুলোকে আগে কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হত। এমন আশঙ্কাও রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত এমন কিছু ইরানি জাহাজও আটকে দিতে পারে যেগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহারই করত না।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সমুদ্রপথে অবরোধ শুরু করে, তবে ইরানের চারটি প্রধান বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১. খার্গ দ্বীপ ২. জাস্ক টার্মিনাল ৩. বন্দর আব্বাস ৪. বন্দর খোমেনি।
ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা করলেও ধীরে ধীরে তা পুনরায় খুলে দেয়। এমনকি কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে ২০ লক্ষ ডলার (প্রায় ১৮ কোটি রুপি) পর্যন্ত ফি-এর বিনিময়ে যাতায়াতের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প যখন ইরানের উপর অর্থনৈতিক আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এটাও সামনে এসেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান থেকে তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। এদিকে, ইরান যুদ্ধের মধ্যেও এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে তার তেল পরিবহন অব্যাহত রেখেছে।
সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান মার্চ মাস পর্যন্ত গড়ে ১৮ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। যা আগের তিন মাসের তুলনায় দৈনিক প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেল বেশি। ইরানের তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত তহবিল সরকার চালানো এবং সামরিক অভিযানের খরচ চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে এতে বাধা সৃষ্টি করতে চান। তবে, এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানে ব্যর্থ বৈঠকের পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
তেলের দাম আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী এই অঞ্চল দিয়ে ইরানি ট্যাঙ্কার চলাচলে কোনও বাধা দেয়নি। কারণ যে কোনও জায়গা থেকে বাজারে অপরিশোধিত তেল পৌঁছলে তা তেলের দামকে অন্তত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। এই কারণে, মার্চ মাসে ইরানকে ট্যাঙ্কারে বোঝাই করে সমুদ্রে পৌঁছনো তেল বিক্রি করার জন্য একটি অস্থায়ী লাইসেন্স দিয়েছিল আমেরিকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল) সহজলভ্য হয়। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (US Energy Information Administration) অনুসারে, বিশ্বের প্রায় দেড় দিনের তেলের চাহিদা মেটানোর জন্য ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল যথেষ্ট ছিল। কিন্তু, ট্রাম্প যদি এখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেন, তাহলে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


