US offers: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার এবং 'সম্ভাব্য পুনর্বাসন'-এর প্রস্তাব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা বা তারও বেশি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ট্রাম্পের দলের। কিন্তু তারপরেও দমে যেতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যে ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নিয়ে বারবার তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সেই বিষয়গুলি থেকে এখনই পিছু হঠছেন না ট্রাম্প। তারই তাঁর প্রশাসন যে ইরানের যুদ্ধ জিয়ে রাখতে চায় তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল একটি প্রস্তাব।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তাব
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার এবং 'সম্ভাব্য পুনর্বাসন'-এর প্রস্তাব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। যার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯০ কোটি টাকা বা তারও বেশি। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চলমান যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান এখন মরিয়া।
২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা মার্কিন প্রশাসনের
এক্স-এ শেয়ার করা একটি পোস্টে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির স্থাপনা, সরঞ্জাম এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতো সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্পর্কে তথ্য দিলে এই ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার এবং পুনর্বাসনের সুযোগ মিলতে পারে।
আমেরিকার নাগরিক ও তাদের স্বার্থ রক্ষায় সাহায্য করে এমন গোয়েন্দা তথ্যের জন্য আর্থিক পুরস্কার দিতে ১৯৮৪ সালে প্রথম এই উদ্যোগটি চালু হয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা পুরস্কার কর্মসূচির অধীনে এটি পরিচালিত হয়।
এই ঘোষণার কারণ ব্যাখ্যা করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিয়ম না মানার কারণে সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটি তাদের 'ধারাবাহিক তথ্য' হারিয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য দিলে পুরো ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে, সেই সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নির্দেশিকায় বলা হয়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, মার্কিন বাহিনী সফলভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে কথা বলার সময় এই মার্কিন নেতা বলেন, "আমরা যদি ইরানে আঘাত না হানতাম, তবে আজ ইসরায়েল বলে কিছু থাকত না।" তিনি আরও যোগ করেন, "তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা সেটা ব্যবহার করত। তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত।"
সামরিক পদক্ষেপের পরও প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, আট মাসের এই সংঘর্ষে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে তেহরান এখন কোনো একটা চুক্তিতে পৌঁছাতে উদ্গ্রীব হয়ে আছে। তিনি বলেন, "আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা খুব করে একটা চুক্তি করতে চাইছে।"
এই পরিস্থিতির মাঝে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কূটনৈতিক চেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খুঁজতে তার প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তাকে এখনও এক বা দুটি অবশিষ্ট সাইট নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মধ্য ইরানে অবস্থিত 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন'-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। এটি একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা বলে মনে করা হলেও তেহরান তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।














