Woman Welcomes 7th Baby বিশ্বজুড়ে যখন জন্মহারের রেকর্ড পতন ও দ্রুত বৃদ্ধ হতে থাকা জনসংখ্যা নিয়ে আশঙ্কার মে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ এক বিপরীত ছবির জন্ম দিয়ে নজর কাড়লেন জাপানের বিশিষ্ট লেখিকা তথা প্রাক্তন রাজনৈতিক প্রার্থী কোতোয়ে হাশিমোতো।
Woman Welcomes 7th Baby বিশ্বজুড়ে যখন জন্মহারের রেকর্ড পতন ও দ্রুত বৃদ্ধ হতে থাকা জনসংখ্যা নিয়ে আশঙ্কার মে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ এক বিপরীত ছবির জন্ম দিয়ে নজর কাড়লেন জাপানের বিশিষ্ট লেখিকা তথা প্রাক্তন রাজনৈতিক প্রার্থী কোতোয়ে হাশিমোতো। সম্প্রতি তিনি নিজের সপ্তম সন্তানের জন্ম দেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করতেই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। দেশের তীব্র জনসংখ্যার সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এই ব্যক্তিগত মুহূর্তটিকে কেবল পারিবারিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি, বরং জাপানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সাধারণ মহিলাদের উদ্দেশ্যে এক বিতর্কিত এবং তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সন্তান প্রসবের পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার খবর জানিয়ে হাশিমোতো নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন।
জাপানি মহিলাদের বেশি করে সন্তানের জন্ম দেওয়ার আহ্বান
সেখানে তিনি প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন যে, বর্তমান সময়ে জাপানি মহিলাদের আর পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। সন্তান ধারণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করছেন। হাসপাতাল থেকে নবজাতককে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর শিশুটির প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম নিবন্ধনের কাজও দ্রুত শেষ করেছেন হাশিমোতো। নতুন এই জাপানি নাগরিক যেন দেশের ভাবমূর্তি ও সংকটজনক সামাজিক পরিস্থিতি রক্ষায় অবদান রাখতে পারে, তার জন্য নেটিজেনদের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন তিনি।
দেখুন ভিডিও
এর আগেও জন্মাহার নিয়ে মুখ খোলেন
তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও হাশিমোতো একাধিকবার দেশের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এবং সরকারকে নানান বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, সরকারের প্রচলিত উর্বরতা সংক্রান্ত চিকিৎসা অনুদানের চেয়েও মহিলাদের শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি বা কসমোটিক অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দিলে তা সন্তান ধারণে মহিলাদের বেশি উৎসাহিত করতে পারে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যম দুটি স্পষ্ট ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক দল যেমন দেশপ্রেম ও জাতীয় সংকটে তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, অন্য দল আবার তুলে ধরেছেন জাপানের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা। সেখানে বিপুল কাজের চাপ, ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং সন্তান প্রতিপালনের চড়া খরচের মাঝে এত বড় পরিবার চালানো সাধারণ মানুষের পক্ষে কতটা অসম্ভব, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দেখুন ভিডিও
জাপানের জন্মাহার নিয়ে বড় প্রশ্ন
হাশিমোতোর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় ওঠার মূল কারণ হলো জাপানের বর্তমান জনসংখ্যাগত পরিসংখ্যান। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, বিগত বছরটিতে দেশে নতুন শিশুর জন্ম নিশ্চিতভাবেই সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছে, যা ১৮৯৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন। টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপানে শিশু জন্ম নেওয়ার সংখ্যা যেভাবে কমছে, তাতে আগামী দিনে কর্মক্ষম মানুষের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করতে চলেছে। এমনকি প্রজনন হারের দিক থেকেও দেশটি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে, যা স্বাভাবিক সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার সীমার চেয়ে অনেক নিচে। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংখ্যা যেভাবে কমছে, তাতে দেশের অর্থনীতি ও বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


