কলকাতার পুরনো পুজোগুলির মধ্যে অন্যতমবেলেঘাটার ভট্টাচার্য পরিবারের পুজো পুজো শুরু হওয়ার পেছনে আছে এক ইতিহাস কালো দুর্গা পূজিতা হন এই বাড়িতে  ভট্টাচার্য পরিবারের এই পুজো সম্পন্ন হয় কালিকা পুরাণের মতে  

কৈলাশ থেকে ছেলেপুলে সহ বাপের বাড়ি আসছেন 'মা'। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। শরতের মেঘলা আকাশ, শিউলি ফুলের গন্ধ ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে সে কথা। সেই মত সারা বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি পর্বও। থিম পুজোর পাশাপাশি বনেদী বাড়ি গুলি নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে আজও। ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিবছরই মা-কে বরণ করে নেন তাঁরা। কলকাতার ঐতিহ্যশালী বাড়ি গুলির মধ্যে অন্যতম হল বেলেঘাটা ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গা পুজো। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনঃ নাম লেখাননি এখনও, দেরি না করে অংশ নিন এশিয়ানেট নিউজ শারদ সম্মান ২০১৯-এ

প্রায় ২৮৭ বছরের পুরনো এই পারিবারিক দুর্গা পুজো। তবে এই পুজো শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পাবনা জেলার শূলবসন্তপুর অঞ্চলে। নাটোরের রানী ভবানীর আমলের হরিদেব ভট্টাচার্য প্রথমবার এই পারিবারিক দুর্গা পুজোর আয়োজন করেছিলেন। তবে দুর্গা পুজো শুরুর অনেক আগে থেকেই মা কালীর পুজো হত ভট্টাচার্য পরিবারে। এমনকী হরিদেব ভট্টাচার্য নিজেও চরম কালীভক্ত ছিলেন। তবে মা দুর্গার স্বপ্নাদিষ্ট হওয়ার কারণে তিনি শুরু করেন মা দুর্গার আরাধনা। মা তাঁকে স্বপ্নে আদেশ দিয়েছিলেন 'কালো' মূর্তির পুজো করতে। তাই আজও কালো মূর্তির পুজো হয়ে আসছে ভট্টাচার্য পরিবারে।

আরও পড়ুনঃ 'অজান্তে' দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতার আহিরীটোলা সার্বজনীন

এখানে মা দুর্গার গায়ের রঙ কালো হলেও তাঁর চার সন্তানের গায়ের রঙ স্বাভাবিক। প্রতিমার মহিষাসুরের রঙ সবুজ। ভট্টাচার্য পরিবারের এই পুজো সম্পন্ন হয় কালিকা পুরাণের মতে। স্বভাবতই এখানে মা পূজিতা হন ভদ্রকালী রূপে। তবে এই পুজোর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এখানে মা দুর্গার চার সন্তানের অবস্থান আলাদা। মায়ের ডানদিকে থাকেন লক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাম দিকে থাকেন সরস্বতী ও গনেশ। 

বেলেঘাটার 'ধীরেন চারু স্মৃতি সংঘ' ক্লাবের পুজোমণ্ডপের কাছেই অ্যাপার্টমেন্টের নীচে অনুষ্ঠিত হয় এই পুজো। পুরনো পাঁঠা বলির প্রথা বদলে প্রতিদিনি চাল কুমড়োর বলি দেওয়া হয় এই পুজোয়। পথচলতি অনেকেই এই পুজোকে অ্যাপার্টমেন্টের পুজো ভেবে ভুল করতে পারেন। ১/২ পি/১বি, রামকৃষ্ণ নস্কর লেন, কলকাতা হল এই বাড়ির ঠিকানা।