জোড়াবাগানে ৯ বছরের নাবালিকার যৌন নির্যাতন করে শিশু খুনের কাণ্ডে উঠে এল হাড় হিম করা তথ্য।  ফরেন্সিক সূত্র জানিয়েছে, ওই নাবালিকার উপর কী ভয়ঙ্কর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে অপরাধী। 

আরও পড়ুন, ৯ বছরের নাবালিকে যৌন নিগ্রহ করে খুন, দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ জোড়াবাগানে  

 

ঘটনাস্থল ঘুরে নমুনা সংগ্রহের পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রথমে ওই ৯ বছরের নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। তারপর ওই নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফের গলায় উপর আড়াআড়ি ছুরি চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই ছুরিও।  ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা আরও  জানিয়েছেন, নাবালিকার ৪টি দাঁত ভেঙে ঘটনাস্থলে পড়েছিল। এমনকি ওই নাবালিকার মাথার পিছন থেকেও চুল টেনে ছেড়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন, সই নকল নথি জালের অভিযোগ, ED-র প্রাক্তন অফিসার মনোজ কুমারকে তলব বিধাননগর কমিশনারেটের 

 

অপরাধীর হাত থেকে বাঁচার জন্য বছর ৯ এর ওই মেয়েটি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কারণ ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর ধস্তাধস্তির চিহ্ন মিলেছে। এমনকি নিম্নাঙ্গের বস্ত্র এবং অন্তর্বাস পরনে থাকলেও গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত ছিল। ছাদে হাওয়াই চটি ও খালি পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে। এদিকে  অভিযুক্তের পাশাপাশি বহু মানুষও খোঁজাখুঁজি করতে ছাদে উঠেছিলেন। ফলে প্রচুর পায়ের চাপে অপরাধী একজনই নাকি আরও অনেকে ছিল তা বোঝা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আরও পড়ুন, গরু পাচার কাণ্ডে নয়া মোড়, এবার এনামুল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীকে তলব করল CBI  

 

নাবালিকার পরিবার সূত্রে খবর, তিন বোনের মধ্যেই সেই ছিল সবচেয়ে ছোট। বছর নয়ের ওই মেয়েটি কলেজ স্ট্রিটের একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পাঠরত ছিল। নাবালিকার বড় মামি জানান, বুধবার রাত ৮ নাগাত, ১৬ বছর বয়সী মেজো দিদির সঙ্গে মামা বাড়ি এসে ছিল সে। এরপর রাত ৮ টার পর থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতেই জোড়াবাগান থানা এলাকায় মিসিং ডায়েরি করে পরিবারের লোকেরা। এরপর রাত পেরোতেই বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা নাগাদ মামা বাড়ির কাছেই জোড়াবাগানের বৈষ্ণব শেখ স্ট্রিটর একটি তিন তলা বাড়ির ছাদে ওই   বিবস্ত্র ও গলা কাটা অবস্থায় ওই  নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন, কোভিড আক্রান্তের সংখ্য়া ফের বাড়ল শহরে, নাম লিখিয়েও টিকা মিলল না কলকাতা মেডিক্য়ালে 

 

যৌন নিগ্রহ করে খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি যে দুই বালিকার সঙ্গে নির্যাতিতা নাবালিকাকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল, তাঁদেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা। যদিও দোষীদের গ্রেফতার শাস্তির দবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, নিখোঁজ ওই শিশুটির খোঁজে বুধবার সন্ধে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল অবধি একাধিকবার জোড়াবাগান থানা এলাকায় যান পরিবার, তবুও পুলিশের কাছ থেকে কোনও সহযোগীতা মেলেনি।