মহিলাকে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করছিল মেয়ে, জামাই। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মাঝরাস্তাতেই চাদরে জড়ানো দেহ ফেলে রেখে পালাল তারা। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল বেহালার বকুলতলা এলাকায়। বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে মৃতার মেয়ে, জামাই এবং স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। 

এ দিন সকালে বেহালার বকুলতলা এলাকায় রাস্তার উপরেই একটি চাদরে জড়ানো মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। চাদরের মধ্যে ঢাকা দেহটি বাইরে থেকে নাইলনের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। দেহের পাশেই পড়ে একটি ট্রলি ব্যাগ। 

সন্দেহ হওয়ায় পর্ণশ্রী থানায় খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ওই মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পরে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। 

আরও পড়ুন- বেঙ্গালুরুতে কলকাতার মডেল খুনের কিনারা, গ্রেফতার অ্যাপ ক্যাব চালক

আরও পড়ুন- জোড়া খুনের ঘটনা ট্যাংরায়, লোহার বালতির আঘাতে মৃত একই পরিবারের ২ জন

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের নাম শম্পা চক্রবর্তী। যেখানে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়, তার পাশেই একটি আবাসনের চারতলায় স্বামী গোপাল চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকতেন ওই মহিলা। পুলিশ তদন্তে নামার পরেই শম্পাদেবীর প্রতিবেশী এক মহিলা দাবি করেন, রবিবার ভোর তিনটে নাগাদ শম্পাদেবীর মেয়ে এবং জামাইকে ভারী কিছু নিয়ে বেরোতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। গোটা ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড করতে শুরু করেন তিনি। সাইকেলে ওই চাদরে জড়ানো দেহ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে দাবি ওই প্রত্যক্ষদর্শী মহিলার। প্রতিবেশী ওই মহিলাকে শম্পাদেবীর মেয়ে জামাইও দেখতে পায়। তখনই সতর্ক হয়ে গিয়ে চাদরে জড়ানো দেহ রাস্তার উপর ফেলেই চম্পট দেয় তারা। প্রতিবেশী ওই মহিলাই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দাকে খবর দেন। প্রথমে অবশ্য তাঁরা বুঝতে পারেননি চাদরের মধ্যে শম্পাদেবীর দেহ রয়েছে। পরে অবশ্য পুলিশ আসার পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জয়েন্ট সিপি ক্রাইম মুরলীধর শর্মা। তিনি জানান, ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে। খুন জড়িত থাকার সন্দেহে শম্পাদেবীর মেয়ে রিয়া দত্ত, জামাই জয় দত্ত এবং স্বামী গোপাল চক্রবর্তীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। 

তদন্তে নেমে শম্পাদেবীর ফ্ল্যাটেও যায় পুলিশ। তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢোকার পরে ভিতর থেকে ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সম্ভবত ওই অস্ত্র দিয়েই খুন করা হয়েছে শম্পাদেবীকে। ধৃত তিনজনকে জেরা করে খুনের উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।