নরম-গরম ছেড়ে রাতারাতি ঠান্ডা। বিজেপিতে 'মিলে গেল' দুই মেরু। এক জেপি নাড্ডার ফোনে বিজেপির প্রচারে দিলীপের সঙ্গে হাত মেলালেন মুকুল। অপর দিকে,খোদ রাজ্য বিজেপির সভাপতি  বললেন, মুকুল দার সঙ্গে বনিবানার কোনও অভাব নেই। দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আসলে মিথ্যে প্রচার।

তাড়া করছে সংক্রমণ, নবান্ন থেকে তড়িঘড়ি দফতর সরছে মুখ্যমন্ত্রীর

বিজেপির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, করোনা, আমফান, রেশন দুর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে 'ব্যাকফুটে তৃণমূল'। রাজ্য়ে গদি দখলের দৌড়ে বিরোধীেদর মধ্য়ে সবার আগে নাম রয়েছে বিজেপির। কিন্তু ২০২১-এর নির্বাচনের আগে দলে দিলীপ-মুকুল দ্বন্দ্বে ভাবমূর্তি  নষ্ট হচ্ছে গেরুয়া ব্রিগেডের। ঘাসফুল থেকে পদ্মফুলে আসা মুকুলপন্থী অনেক নেতাই এখন দোটানায়। যার সুযোগ নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপিতে কোণঠাসা একের পর এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতারা ঘরে ফিরছেন। 

হাতে ঘাসফুল-মনে পদ্মফুল, দলের 'গদ্দারদের' নিয়ে চিন্তায় তৃণমূল

কদিন আগেই 'ঘর ওয়াপসি'র ব্রিগেডে নাম লিখিয়েছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা বিপ্লব মিত্র। উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতার পরই একই পথে হেঁটেছেন হুমায়ূন কবীর। যা দেখে টনক নড়েছে দিলীপ ব্রিগেডের। মুখে এরা গেলে দলের কোনও ক্ষতি হবে না বললেও এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন রাজ্য় বিজেপির কান্ডারি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জবাব দিতে হবে রাজ্য় সভাপতিকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এদের দল ছাড়া চিন্তায় রাখছে রাজ্য় বিজেপিকে। 

বিজেপি ছেড়ে 'ঘরে ফিরছেন' তৃণমূলের একাধিক নেতা, কী বলছেন দিলীপ.

কালীঘাট সূত্রে খবর, বিজেপির এই দশার কথা তৃণমূলপন্থী সংবাদ মাধ্য়মে ফলাও করে দেখানো হচ্ছে। যার ফলে গেরুয়া ব্রিগেডে থেকেও ভবিষ্যৎ নিয়ে ধন্দে পড়েছেন তৃণমূল থেকে আসা নেতারা। যার সুযোগ নিতে ছাড়ছেন না তৃণমূল নেত্রী। শাসক দলের এই মাস্টার প্ল্যান কিছুটা হলেও উপলব্ধি  করতে পেরেছেন বিজেপির নেতারা। মুখে চলে যাওয়া নেতাদের পাত্তা না দিলেও দলে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কি মুকুলপন্থী নেতাদের কোণঠাসা করে রাখছেন দিলীপবাবু ? বিষয়টা বুঝতে পেরেই মুকুল রায় নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন রাজ্য়  বিজেপির কান্ডারি। 

'আমার পরিবার, বিজেপি পরিবার' ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দিলীপ ঘোষ বলেন, 'কিছুদিন ধরেই এ সব নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। দলে কোনও বনিবনার অভাব নেই। মুকুল দার সঙ্গেও না। সব ঠিক আছে।' যদিও রাজ্য় রাজনীতির সাম্প্রতিক অতীত বলছে,অন্য কথা। দিল্লির মিটিং ছেড়ে মুকুল রায়ের কলকাতা আসার পর অন্য ইঙ্গিত করেছিলেন দিলীপবাবু। সাংবাদিকরা দলে মুকুলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দলে যোগ্য়তার প্রমাণ দিতে হয়। নাম না করে মুকুল রায় দলে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারেননি বলেই উল্লেখ করেছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে গেল ভোল বদল। সাধে কী আর বলে, ভোট বড় বালাই !