সকাল থেকে সম্পর্কের আবহ গরম থাকলেও বিকেল হতেই সুর নরম রাজ্য়ের। যার ফল স্বরূপ কেন্দ্রীয় দলকে কলকাতায় পর্যবেক্ষণের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দ্বিতীয় চিঠি আসার পরই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি দ্বিতীয় চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখ দেখেই সুর নরম করল নবান্ন। অবশেষে ছাড়পত্র, রাজ্য়ের নজরদারিতে কলকাতা পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় দল.

মঙ্গলবার শহরে করোনা আক্রান্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় দল। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিদর্শনে বাধা পায় তাঁরা। পুলিশের নির্দেশ মতো এলাকা পরিদর্শনের কথা বলা হলে নাকচ করে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। কেন্দ্র থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেই অনুযায়ী এলাকা পরিদর্শনের দাবি রাখে তাঁরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আটকে। গুরুসদয় দত্ত রোডের বিএসএফের সদর দফতরেই রয়েছেন তাঁরা। সেখানে আসেন সাউথ ইস্ট ডিভিশনের ডিসি দেবস্মিতা দাস ও স্থানীয় থানার আধিকারিকরা।

রাজ্য়ে করোনা আক্রান্ত ৪০০ ছুঁই ছুঁই, বলছে কেন্দ্রের বুলেটিন.

এ ব্যাপারে ওই প্রতিনিধি দলের প্রধান তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্র বলেন, কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গকে যে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল, সেই মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান সরকারকেও পাঠানো হয়েছিল। ওই রাজ্যগুলিতেও কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল গিয়েছে। তাঁরা রাজ্য সরকারের সাহায্য নিয়ে ভালরকম কাজও করছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন আটকে দিল বুঝতে পারছেন না তিনি।

সকালে  এই অবস্থা হলেও বিকেলে রাজ্য় সরকারের নজরদারিতে কলকাতায় পর্যবেক্ষণ শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিকেলে পৌনে পাঁচটা নাগাদ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলটি কলকাতা পরিদর্শনে বের হন। তবে তাদের সঙ্গে রয়েছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। সূত্রের খবর তাদের নেতৃত্বেই কেন্দ্রীয় দলটি কলকাতা পরিদর্শন করছে।  সবার সামনে রয়েছে কলকাতা পুলিশের টিম। এছাড়া কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কলকাতা পুলিশ ছাড়াও রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিএসএফ। এই দল প্রথমে বালিগঞ্জ থেকে বেরিয়ে গড়িয়াহাট হয়ে গ‌োলপার্ক যান। পরে সেখান থেকে যাদবপুর হয়ে বাইপাসে লকডাউন পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।

কেন্দ্রের প্রতিনিধি দলকে জেলা পরিদর্শনে বাধা, নবান্নের নির্দেশে সংঘাতের বার্তা.

সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে রাজ্যের অসহযোগিতার কথা জানানোর পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ফের রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি পাঠানো হয়। এ নিয়ে মুখ খোলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব। চিঠিতে কেন্দ্র যে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী রাজ্যকে নির্দেশ পাঠিয়েছে সে কথাও জানানো হয় নবান্নকে। এমনকী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেকারও উল্লেখ খরা হয়। রাজ্য়ে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দেশের শীর্ষ আদালতের উল্লেখ দেখেই সুর নরম করে রাজ্য় সরকার।